
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 19 March 2025 21:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাতমাস পর অবশেষে মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেট হাতে পেলেন আরজি করে নির্যাতিতার মা-বাবা। বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্যভবন থেকে তাঁদের ই-মেল করে বিষয়টি জানানো হয়। পরে সন্ধেয় স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম এবং আরজি করের এমএসভিপি নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে সার্টিফিকেট দিয়ে আসেন।
দোরে দোরে ঘোরার পর মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে খানিকটা হলেও স্বস্তিতে বাবা-মা। জানান, সেপ্টেম্বরে প্রথমে ফোনে আবেদন জানান সার্টিফিকেটের। জানুয়ারিতে লিখিত দেন। কিন্তু কোনও কারণে তা পেতে সময় লেগে এতোটা। আজ এখানে তো কাল ওখানে ঘুরতে হয়েছে এই অবস্থায়।
বুধবার দুপুরে মেইল পাওয়ার পর এমএসভিপিকে ফোন করেন নির্যাতিতার বাবা। এতদিন পর একটা গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতে পাচ্ছেন, সেটা নিজেদের মতো সংগ্রহ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর নির্যাতিতার সোদপুরের বাড়িতে পৌঁছন তাঁরা। ডেথ সার্টিফিকেট হস্তান্তর করেন।
নির্যাতিতার বাবা বলেন, 'আমার মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেটের অরিজিনাল কপিটা দিয়ে গেলেন। বললেন, পরবর্তীকালে লাগলে দিয়ে দেবেন। আমাদের কাছে লিঙ্কও এসে গেছে, দরকার হলে প্রিন্ট আউট করে নেব।'
ডেথ সার্টিফিকেটের পিছনে লড়াই সম্পর্কে বলতে গিয়ে খানিকটা বিরক্তই হন তিনি। বলেন, 'অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম। প্রথমে ফোনে তারপর জানুয়ারিতে লিখিত দিই। তারপর থেকে একবার স্বাস্থ্যভবন, বোরো অফিস, আরজি কর করি। আজ হঠাৎ করে এটা আসে। আমি এমএসভিপিকে ফোন করেছিলাম দুপুরে অত কষ্ট করে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার নেই। কায়দা করে দিতে হবে না, আমরা নিয়ে নেব। তারপর মেসেজ আছে, এখন তো দিয়ে গেলেন। পেয়েছি সকলকে ধন্যবাদ জানাই। যা চেয়েছি ডেথ সার্টিফিকেটে তাই লেখা রয়েছে। পড়েছি।'
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৮ অগস্ট গভীর রাতে আরজি কর হাসপাতালে খুন-ধর্ষণের শিকার হন দ্বিতীয় বর্ষের ডাক্তারি ছাত্রী। ঘটনার পর থেকেই একাধিক প্রশ্নে বিদ্ধ আরজিকর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রশ্ন ওঠে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ায় এতোটা দেরি হওয়া নিয়েও।
নির্যাতিতার বাবা-মা জানিয়েছিলেন, মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে গাড়ির কাগজের নাম ট্রান্সফার করতে গেলে ডেথ সার্টিফিকেট লাগবে। কিন্তু পুরসভা এবং আরজি কর হাসপাতাল একে অপরকে দেখাচ্ছে। পুরসভায় গেলে ওরা বলছে, আরজি করে যান, আর আরজি কর হাসপাতালে গেলে ওরা বলছে, প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না।
অবশেষে তাই সার্টিফিকেট পেয়ে খানিকটা হলেও স্বস্তিতে তাঁরা।