'আন্দোলন হবে অহিংসার পথে, গণতন্ত্রের পথে। গান্ধীজি অহিংসার কথা বলেছিলেন, আমরাও আন্দোলন করেছি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, প্রতিবাদ প্রদর্শন করা মানেই হিংসাত্মক আচরণ নয়।' দিল্লি যাওয়ার আগে চাকরিহারা শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের (Trinamool) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 19 May 2025 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আন্দোলন হবে অহিংসার পথে, গণতন্ত্রের পথে। গান্ধীজি অহিংসার কথা বলেছিলেন, আমরাও আন্দোলন করেছি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, প্রতিবাদ প্রদর্শন করা মানেই হিংসাত্মক আচরণ নয়।' দিল্লি যাওয়ার আগে চাকরিহারা শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের (Trinamool) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
সরকারি সম্পত্তি নষ্ট ও সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৫ শিক্ষককে (SSC Job Deprived Teachers) ডেকে পাঠিয়েছে বিধাননগর নর্থ থানা (Bidhannagar North Police Station)। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আগেই একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ (Police)। তার পরও বিকাশ ভবনের (Bikash Bhavan) সামনে লাগাতার অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিহারা 'যোগ্য' শিক্ষকরা। সরকার পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও কোনওরকম আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন না বলেই জানিয়েছিলেন চাকরিহারারা।
যদিও দিল্লি যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে অভিষেক একপ্রকার বরাভয় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন চাকরিহারাদের। জানিয়েছেন, বিচারব্যবস্থার উপর তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। রাজ্যও রিভিউ পিটিশন দিয়েছে। একটা সুরাহার পথ নিশ্চয়ই বেরোবে। তবে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, আন্দোলন চলুক, তবে তাতে রাজনৈতিক রং না লাগতে দিয়ে প্রতিবাদ যেন গণতন্ত্রের পথে হয়।
অভিষেক বলেন, "আমি কিছু ফুটেজ দেখেছি। গেট ভাঙার ভিডিও দেখেছি। চাকরিহারাদের এই আন্দোলনকে আমি ছোট করব না, সেই ধৃষ্টতা আমার নেই। কিন্তু আন্দোলন কখনও উগ্র হয় না, হিংস্র হয় না। আমরা একশো দিনের কাজ নিয়ে দিল্লিতে আন্দোলন করেছি। সাধারণ মানুষ তো ছেড়েই দিন, যাঁরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এমনকি মহিলাদের চুলের মুঠি ধরে মারা হয়েছে। আমরা তো হিংসার পথে যাইনি। বরং পরের দিন রাজভবনের বাইরে ধর্নায় বসেছি। সবটাই শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। আমি চাইব, শিক্ষকরাও যেন অহিংসার পথে থেকে আন্দোলন করেন। আন্দোলনের অধিকার সকলের রয়েছে।"
এ ব্যাপারে চাকরিহারাদের তরফে চন্ময় মণ্ডল অবশ্য বলেন, অভিষেক তাঁর কথা বলেছেন। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে গোটা ব্যাওয়ারটাতেই তাঁর নজরে আনা উচিত ছিল। শুধু আমরা কী করেছি না করেছি, তা নয়। চিন্ময় বলেন, "ওঁর উচিত একবার ভেবে দেখা, কেন আমরা রাস্তায় আছি, কেন আমাদের রাস্তায় এনে ফেলা হল, কেনই বা দিনের পর দিন আমাদের রাস্তায় পড়ে থাকতে হবে! দোষটা কার, চাকরিটা গেল কার জন্য, এই মুহূর্তে কী কী করা উচিত, সেটাও ভেবে দেখা উচিত তাঁর।"
তাঁর মতে, চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকরা কেবল একটাই বাধা অতিক্রম করেছিলেন, সেটা হল বিকাশ ভবনের গেট। বাদবাকি তাঁদের অবস্থান শান্তিপূর্ণই ছিল। চিন্ময় বলেন, "স্লোগানে একটাই আওয়াজ ছিল, মুখ্যমন্ত্রী অন্তত একবার আসুন। তার পরের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেটা সকলেই দেখেছেন, ক্যামেরাতেও ধরা পড়েছে। বরং যাঁদের উপর নির্মম লাঠিচার্জ করা হল তাঁদের বিরুদ্ধেই এখন মামলা করা হচ্ছে। এখানে ঘুরিয়ে কথা বলার কিছু নেই। আমাদের দাবি ন্যায্য। আমাদের দাবি সত্য।"