দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুদূর দক্ষিণ আমেরিকায় তাদের বাস। ওজনের নিরিখে গোটা পৃথিবীর সর্পকূলের মধ্যে তারাই সবচেয়ে কুলীন। লম্বাতেও দ্বিতীয় বৃহত্তম অ্যানাকোন্ডা।
একটা নয়, দুটো নয়, গুনে গুনে ৯টি অ্যানাকোন্ডা সাপের জন্ম হয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানায়, এদিন এমনটাই জানা গেছে সূত্রের খবরে। নতুন অতিথিদের পেয়ে চিড়িয়াখানায় খুশির আমেজ।
২০১৯ সালের জুন মাসে মাদ্রাজ স্নেক পার্ক থেকে মোট ৪টি অ্যানাকোন্ডা আনা হয়েছিল কলকাতায়। তার মধ্যে ছিল দুটি পুরুষ আর দুটি স্ত্রী সাপ। তারপর ২০২০-র জুলাইতে ১১টি হৃষ্টপুষ্ট হলদে অ্যানাকোন্ডার জন্ম হয়েছিল। তৎকালীন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তা ঘোষণাও করেছিলেন।
তারপর আবার ২০২১-এর জুলাইতে জন্ম নিল ৯টি অ্যানাকোন্ডা।
পৃথিবীর বৃহত্তম সাপ অ্যানাকোন্ডা সাধারণত ৪ প্রকার হয়। তার মধ্যে সবুজ অ্যানাকোন্ডাই হল সবচেয়ে বড়। আলিপুরের নতুন অ্যানাকোন্ডারা অবশ্য সকলেই হলুদ। গোটা পৃথিবীর সাপেদের মধ্যে আকারে এরাও বিশাল হয়। এরা ডিম পাড়ে না। সরাসরি সন্তান প্রসব করে। সদ্যোজাত অ্যানাকোন্ডারাও সাধারণ সাপের বাচ্চার তুলনায় আকারে বড় হয়। মায়ের শরীরের আকারের ১ শতাংশ হয় সদ্যোজাত অ্যানাকোন্ডা।
জন্মের পরপরই মা অ্যানাকোন্ডা ছানাদের ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। একা একাই বেড়ে ওঠে ছোট অ্যানাকোন্ডারা। তারপর একসময় তারা হয়ে ওঠে প্রাপ্তবয়স্ক। হলদে অ্যানাকোন্ডা সর্বাধিক তিন মিটার লম্বা হয়। ১৫ থেকে ২০ বছর বাঁচতে পারে তারা। কেউ কেউ ২৫ বছর জীবদ্দশার নজিরও গড়েছে।
সাধারণত বড় বড় ইঁদুর, খরগোশ অ্যানাকোন্ডার খাদ্য। তাছাড়া মুরগি ও অন্যান্য পশুপাখিও খেয়ে থাকে তারা।
আলিপুর চিড়িয়াখানার নতুন আকর্ষণ এখন এই ৯টি অ্যানাকোন্ডা সাপের ছানা। তাদের নিয়েই মেতে আছেন চিড়িয়াখানার কর্মীরা।