
শেষ আপডেট: 19 March 2024 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্য ওয়াল ব্যুরো: গার্ডেনরিচে বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় চাপের মুখে পড়ে শেষমেশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
সোমবার ঘটনাস্থালে দাঁড়িয়ে মেয়র বলেছিলেন, কীভাবে বেআইনি নির্মাণের অনুমোদন পেয়ে যাচ্ছে তা তিনি জানেন না। মেয়রের সেই কথা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুধু তা নয়, মঙ্গলবার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, গার্ডেনরিচ কাণ্ডের দায় নিতে হবে মহানাগরিককেও। এর পরই দেখা গেল, পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের চার অফিসারকে রাতারাতি সরিয়ে দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এঁদের মধ্যে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং বাকি তিন জন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার।
মঙ্গলবার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বলেন, যাঁর নিয়ন্ত্রণে সবটা রয়েছে তাঁরই দেখার দায়িত্ব কোথাও অনিয়ম হচ্ছে কিনা। গার্ডেনরিচ হল মেয়র ববি হাকিমের বিধানসভা কেন্দ্র। স্থানীয় কাউন্সিলর সামস ইকবাল মেয়রের ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। ডেপুটি মেয়র এদিন রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, কাউন্সিলর সারাক্ষণ প্রমোটারের সঙ্গে ঘুরলে প্রশ্ন তো উঠবেই।
গার্ডেনরিচে বহুতল ভাঙার পর থেকেই শামস ইকবালের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে এও অভিযোগ, পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের একাংশ অফিসার-কর্মীও বেআইনি নির্মাণে অনুমোদন দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত।
গার্ডেনরিচে যে জমিতে ওই বহুতল তৈরি হচ্ছিল তা ভূমি দফতরের রেকর্ডে পুকুর ও পুকুর পাড় বলে দেখানো রয়েছে। পুরসভা সেই জমিতে জি প্লাস টু বাড়ি বানানোর জন্য প্ল্যান অনুমোদন করেছিল। পুরসভা জমির চরিত্র বদল করলেও ভূমি দফতরকে জানায়নি। একে তো এই অনিয়মের বিষয়টি রয়েছে। সেই সঙ্গে এও দেখা গেছে, জি প্লাস টু-র অনুমোদন নিয়ে ৬ তলা বাড়ি বানানো হয়েছে।
অনেকের মতে, গোটা ঘটনাতেই পরিষ্কার যে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে একটা চক্র চলছে। সেই চক্রে পুরসভার একাংশ ও পুলিশের নিচুতলার মদত না থাকলে এরকম ঘটতে পারে না।
বিল্ডিং বিভাগের চার অফিসারকে বদলি করে মেয়র এদিন অসন্তোষের হাওয়া অনেকটা বের করে দিতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এদিনও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, লোক দেখানো পদক্ষেপ দিয়ে চিড়ে ভিজবে না। পুরসভার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমকেই সরাতে হবে।