
পেরিয়ে গিয়েছে ৭২ ঘণ্টা
শেষ আপডেট: 8 October 2024 22:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাল অর্থাৎ ৯ অক্টোবর দু'মাস হবে আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের আঁচ সেই যে জ্বলে উঠেছে, তা এতদিনে স্তিমিত হওয়ার বদলে বরং বারবার তীব্রতর হয়ে উঠেছে। ডাক্তারদের আন্দোলনের গতিও বাড়ছে ধাপে ধাপে। মিছিল, বৈঠক, অবস্থান- এসবের পরে শুরু হয়েছে আমরণ অনশন। সেই অনশনেরও ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেল। এখনও নিজেদের দশ দফা দাবিতে অনড় জুনিয়র ডাক্তাররা।
প্রাথমিক ভাবে ৬ জন জুনিয়র চিকিৎসক শুরু করলেও, আরজি কর থেকে একের পর এক চিকিৎসক সেই অনশনে সামিল হচ্ছেন। পাশাপাশি চলছে সিনিয়র চিকিৎসকদের ১২ ঘণ্টার প্রতীকী অনশনও। এদিকে জুনিয়র ডাক্তারদের সিদ্ধান্তকে সংহতি জানিয়ে গণইস্তফা দিয়েছেন আরজি করের সিনিয়র ডাক্তাররা। কলকাতা মেডিক্যালের সিনিয়ররাও প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন। অনশনকারীদের সঙ্গে সদর্থক আলোচনা না করলে তাঁরাও ইস্তফা দেবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে আবার তারিখ লক্ষ করলে দেখা যাবে, কাল অর্থাৎ ষষ্ঠীর দিনই ৯ অগস্টের ঘটনার দু'মাস পূর্ণ হবে। মঙ্গলবার পঞ্চমীর বিকেলে জুনিয়র চিকিৎসকদের মহামিছিলে অনুমতি মেলেনি। পুলিশের তরফে সাফ জানাও হয়েছে, পুজোর কারণে কোনওভাবেই মিছিলের অনুমতি মিলবে না। বারবার অনুরোধ ও চিঠি চালাচালি করে কোনও সদর্থক উত্তর না পেয়ে মহাষষ্ঠীর সকালে সিজিও কমপ্লেক্স অভিযানের ডাক চিকিৎসক ও নার্সদের তিন সংগঠনের।
প্রসঙ্গত, নবান্ন থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেছিলেন, ডাক্তারদের সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েই দেখছে সরকার। 'রাত্তিরের সাথী' প্রকল্পে ইতিমধ্যে ১১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ৪৫ শতাংশের বেশি সিসিটিভির কাজ হয়ে গেছে। এছাড়া ওয়াশরুম সংক্রান্ত ৬৫ শতাংশ কাজ এগিয়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যসচিব। তিনি এও বলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু হবে। সব ঠিক হলে প্যানিক বটন-এর কাজ শুরু হবে পয়লা নভেম্বর থেকে।
এই প্রেক্ষিতে জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে ফেরার বার্তা দেন মুখ্যসচিব। তিনি এও বলেন, সবাই মিলে হাসপাতালের পরিষেবা আরও ভাল করার কাজ করছেন। আশা করা হচ্ছে দ্রুত পরিস্থিতি বদলাবে। যদিও অনশন মঞ্চ থেকে আন্দোলনকারীরা সাফ জানান, আরজি করের নির্যাতিতার বিচারের পাশাপাশি কলেজে কলেজে ভর্তিতে দুর্নীতি, থ্রেট কালচার-সব ধরনের বেনিয়ম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন চলবে।