
শেষ আপডেট: 17 October 2023 17:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষার সময় থেকেই খলনায়ক ডেঙ্গি। মশা বাহিত রোগ বিভীষিকা হয়ে উঠেছে। গত এক মাসে একের পর এক ডেঙ্গিতে মৃত্যু দেখেছে বাংলা। পুজোর মুখে ডেঙ্গি-ম্য়ালেরিয়া নিয়েই চিন্তা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য দফতরের। চারদিকে পুজোর আনন্দে মাতোয়ারা সকলে, আর এই সময়েই মর্মান্তিক খবর এল। ডেঙ্গি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পার্ক সার্কাসে মৃত্যু হয়েছে মাস দুয়েকের এক শিশুর।
সূত্রের খবর, পার্ক সার্কাসের ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথে ভর্তি ছিল বাচ্চাটি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর জ্বর আসে তার। জ্বর না সারায় ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে দেখেন ডেঙ্গি পজিটিভ। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পিআইসিইউ-তে রাখা হয় শিশুটিকে। ১৪ তারিখ তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, ডেঙ্গি জ্বরে দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল শিশুটির। তাকে বাঁচানো যায়নি। ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গির উল্লেখ করেছেন ডাক্তাররা।
ডেঙ্গি মশা বেড়েছে। তাছাড়া জমা জল, আবর্জনায় আরও বেশি মশার বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। মশার লালা বাহিত হয়ে ডেঙ্গির ভাইরাস ঢুকে পড়ছে মানুষের শরীরে। করোনার পরে নানা শারীরিক সমস্যায় জেরবার অনেকে। তার মধ্যে ডেঙ্গি হলে শরীর আরও বিগড়ে যাচ্ছে। যাদের আগে থেকেই নানা কোমর্বিডিটি রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গি (Dengue) ভয়ানক হয়ে উঠছে। তাই প্রত্যেককে এই সময় বাড়তি সতর্কতা নিতেই হবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে।
ডেঙ্গিতে মৃত্যুর কারণই হল হয় হেমারেজিক ফিভার, না হলে শক সিন্ড্রোম। ডেঙ্গির চরিত্রই তাই। জ্বর যেদিন থেকে কমতে থাকে, ডেঙ্গির খারাপ সময়টা সেদিন থেকেই শুরু হয়। এরপর থেকেই রোগীর শরীরে সাইটোকাইন স্টর্ম বা হাইপার ইমিউন রিঅ্যাকশন শুরু হয়ে যায়। সাইটোকাইন স্টর্ম হচ্ছে যখন শরীরের ইমিউন কোষই (রোগ প্রতিরোধী কোষ) শত্রু হয়ে ওঠে। অতিসক্রিয় হয়ে অন্যান্য সুস্থ কোষগুলিকে আক্রমণ করতে শুরু করে। তখন শরীরে নানারকম প্রদাহ সৃষ্টিকারী পদার্থগুলো বের হতে থাকে। ফলে শরীরের ভেতরে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন (Inflammation) শুরু হয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হলে দ্রুত অবস্থার অবনতি হয়।