২০ বছরের ওই তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্ত কিশোরের পরিচয় হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media)। বয়সে ছোট হওয়া সত্ত্বেও ধীরে ধীরে সম্পর্ক এগোতেই অভিযুক্ত তরুণ প্রেমের প্রস্তাব দেয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 February 2026 10:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেখা করার জন্য ডেকে তরুণীকে গাড়িতে তুলে অপহরণের (Kidnapping) চেষ্টা! মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ ১৮ বছরের এক যুবকের বিরুদ্ধে (Assault allegation against 18 year old)। ঘটনার পরই কলকাতা পুলিশের একটি দল প্রায় দু'কিলোমিটার রাস্তা ধাওয়া করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার (Arrested) করে। প্রাথমিক অনুমান, প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যান হওয়ায় প্রতিশোধের মানসিকতা থেকেই এই হামলা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০ বছরের ওই তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্ত কিশোরের পরিচয় হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media)। বয়সে ছোট হওয়া সত্ত্বেও ধীরে ধীরে সম্পর্ক এগোতেই অভিযুক্ত তরুণ প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তরুণী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান (Proposal Rejected) করেন এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিযুক্ত। এনিয়ে কথা বলার জন্য শনিবার দু'জনের দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই মতো তরুণী পৌঁছলেই তাঁকে তরুণীকে গাড়িতে তুলে নেয় অভিযুক্ত। এরপরই শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক।
দক্ষিণ কলকাতার (South Kolkata) হরিদেবপুরের রাজা রামমোহন রায় রোড (পূর্ব) এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণীর অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার রোড (Diamond Harbour Road) ধরে বাগির খাল ও বেহালা চৌরাস্তার মধ্যে দিয়ে গাড়িটি চলছিল। তাঁকে গাড়ির ভিতর আটকে রেখে অভিযুক্ত তরুণ ঘুষি-লাথি মারে, শুধু তাই নয়, শ্লীলতাহানিও করে। তরুণী জানিয়েছে, তাঁকে ভয় দেখিয়ে গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। তরুণীর দাবি, অভিযুক্ত গাড়ি থামিয়ে তাঁকে জোর করে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়ে চম্পট দেয়। রাতের অন্ধকারে আহত অবস্থায় রাস্তার ধারেই ঘোরাঘুরি করতে দেখে এক ট্রাফিক সার্জেন্ট তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে বেহালা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুলিশকে গোটা ঘটনার বিবরণ দেন তরুণী।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) বেহালা অঞ্চলের সব থানাগুলি। ট্রাফিক গার্ডগুলিকেও সতর্ক করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং শুরু হয় এবং নজরদারি বাড়ানো হয়। এরপরই পুলিশ অভিযুক্তের গাড়িকে চিহ্নিত করে পিছন থেকে তাড়া করতে শুরু করে। দু’কিলোমিটার ধাওয়া করে পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে যুবককে গ্রেফতার করে।
ধৃত পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কী উদ্দেশ্য এবং কীভাবে পরিকল্পনা করে এই হামলা করা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।