
শেষ আপডেট: 19 March 2024 21:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গার্ডেনরিচ কাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ জন। মঙ্গলবার সন্ধেয় এসএসকেএমম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার রাতে গার্ডেনরিচের আজহার মোল্লা বাগানে এলাকায় ঝুপড়ির উপর ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ বহুতলের একাংশ। ধ্বংসস্তুপের নীচে আটকে পড়েন বহু মানুষ। প্রাথমিকভাবে ৪ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গিয়েছিল। পুলিস সূ্ত্রে খবর, সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৯। এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন একাধিক জন। মঙ্গলবার রাতে সেখানেই মৃত্যু হয়েছে আরও এক চিকিৎসাধীনের।
এদিকে দু’ রাত পার হয়ে যাওয়ার পরও গার্ডেনরিচে ধ্বংস্বস্তুপে উদ্ধারকার্য চলছে। চারদিকে চাঙড়, লোহার জাল, বাঁশ, টিন আরও বহু কিছু স্তূপের মতো পড়ে। ফলে সেইসব সরিয়ে উদ্ধারকাজে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।
সূত্রের খবর, ধ্বংসস্তুপ সরাতে গিয়ে মঙ্গলবার সন্ধেয় আরও একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসএসকেএমে। সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক। রবিবার রাত থেকে ধ্বংসস্তুপের নীচে আটকে ছিলেন তিনি।
গার্ডেনরিচ ববি হাকিমের নির্বাচন কেন্দ্র। সেই এলাকারই ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ৩ ফুট গলির মধ্যে কীভাবে ৬ তলা বাড়ি উঠছিল সেটাই মূল প্রশ্ন। শুধু এই বাড়িটিই নয়, গত কয়েক বছরে গার্ডেনরিচ এলাকায় এরকম আরও বহুতল তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যে, এই বাড়ি তৈরির অনুমতি কে দিল? কে প্ল্যান অনুমোদন করল? আর অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে গিয়ে নির্মাণ হলে কেন পুরসভা আগেই ব্যবস্থা নিল না।
পুলিশ জানিয়েছে, বহুতলটিতে ৫টি তলা ছিল। পুলিশের কাছে ধৃত জানিয়েছে, উপরের ফ্লোরে দেওয়াল তৈরি করা হচ্ছিল। তার ফলে বিপর্যয় হয়। সোমবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকা পরিদর্শন করে তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন প্রমোটারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া জন্য। তার পরই প্রমোটার মহম্মদ ওয়াসিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কী করে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই নির্মাণটি করছিলেন প্রোমোটার তাও খোঁজ করছে পুলিশ।