
শেষ আপডেট: 6 April 2022 05:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টালিগঞ্জ থেকে বালিগঞ্জ এবং ধর্মতলা থেকে গড়িয়াহাট, শহরে মাত্র এই দুই রুটেই চলছে ট্রাম (Kolkata Tram)। বাকি সব রুট বন্ধ। কোথাও মেট্রোর কাজের জন্য, আবার কোথাও যানজট এড়াতে। ওই দুই রুটেও সময়ে চলছে না ট্রাম। সবমিলিয়ে প্রায় দশটি করে ট্রাম চলছে রুট দুটিতে। বিকেলের পর কন্ডাক্টর কম থাকায় ট্রাম চালাতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে শহরের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব এই যানের স্থান হয়েছে ডিপোয়। যেগুলির কোনওটির মধ্যে জিনিসপত্র রাখা হচ্ছে। কোনওটা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষীদের ঘুমোনোর জায়গা।
আরও পড়ুন: অনুব্রত আজ কি সিবিআইয়ের মুখোমুখি? রাজ্যজুড়ে তুঙ্গে কৌতূহল
মাঝেরহাট সেতু ভেঙে পড়ার পর যানজটের কারণ দেখিয়ে খিদিরপুর–টালিগঞ্জ রুটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিবাদী বাগে ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ শুরু হওয়ায় উত্তর কলকাতার বেশির ভাগ ট্রাম রুটই বন্ধ। টালা সেতু বন্ধ হওয়ার পরে বেলগাছিয়া সেতুর চাপ কমাতে ট্রাম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বছর কয়েক আগেও কলকাতায় ২৫টি রুটে ট্রাম চলাচল করত।

শহরে গতি আনতে অনেকদিন ধরেই ট্রাম বন্ধ করার কথা বলে আসছে ট্রাফিক পুলিশ। শ্যামবাজার পাঁচমাথা ও শিয়ালদহ ফ্লাইওভার–সহ কলকাতার ২৪টি এলাকা থেকে ট্রামকে বিদায় দিতে চেয়েছিল তারা। ধর্মতলা থেকে এসএন ব্যানার্জি রোড দিয়ে ট্রাম চলাচলও চিরদিনের জন্য বন্ধ রাখাতে চায় পুলিশ।
পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, ট্রাম চালিয়ে কোনও আয় নেই সরকারের, বরং লোকসান। সেইসঙ্গে যানজট হয়। তাই ট্রামের জন্য নতুন করে কোনও কর্মী নিয়োগ করা হয়নি বহু বছর। চালক, কন্ডাক্টরও কম। তাই পরিষেবা দিতে সমস্যা হয়। একটি ট্রাম তিন–চারটে ট্রিপে চলে। অথচ তা থেকে আয় মেরেকেটে হাজার দু’য়েক টাকা। কোনও কোনও দিন তাও হয় না। পরিবহণ দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, মেট্রোর কাজের জন্য যে রুটগুলি বন্ধ রয়েছে সেগুলি ফের চালু করা হবে। তবে কিছু রুটে ইলেকট্রিক বাস চালানো হবে। পোল্যান্ড থেকে ওই বাস আনার কাজ চলছে।

কিন্তু এই আশ্বাসে বিশ্বাস করতে পারছেন না ট্রাম কর্মীরাও। অনেকেই জানালেন, নানা অছিলায় ট্রাম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ওই দুটি রুটই চালু থাকবে বাকি উঠে যাবে। পাশাপাশি শহরের বহু মানুষ এখনও ট্রামে যাতায়াত করতে পছন্দ করেন। তাঁদেরই একজন গৌতম রায় বালিগঞ্জ বিজন সেতুর পিছনে ট্রামস্ট্যান্ডে অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন। পেশায় বেসরকারি সংস্থার অ্যাকাউন্ট্যান্ট গৌতমবাবু বললেন, ‘একদিকে যেমন আরামদায়ক, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব যান এই ট্রাম। ভাড়াও কম। আমার হাতে সময় থাকলে আমি ট্রামেই যাতায়াত করি। বহু রুট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ট্রামকে বন্ধ করা উচিত হবে না। সবকটি রুটই চালানো উচিত।’

‘রাজ্য সরকারের ট্রাম চালানোর কোনও রকম সদিচ্ছা নেই বলে অভিযোগ প্রৌঢ় বিক্রমজিৎ ঘোষের। তিনি বললেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ট্রামকে ফিরিয়ে আনার চিন্তাভাবনা চলছে। বিশেষকরে করোনা পরিস্থিতিতে ট্রাম আরও বেশি করে চালানো উচিত। এরকম খোলামেলা, আরামদায়ক বাহন আমাদের শহরের গর্ব।’
ধর্মতলার ট্রামের কন্ট্রোল অফিসে সোমবার খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ট্রামের মাসিক টিকিট বন্ধ হয়ে গেছে। খাকি পোশাক পরা এক কন্ডাক্টর বললেন, ‘ট্রামই উঠে যাচ্ছে, তার আবার মাসিক টিকিট। বাইরে থেকে কলকাতায় লোক এলে একবার ট্রামে চড়বেনই। এটা কলকাতার ঐতিহ্য। কিন্তু সেই ঐতিহ্য বেশিদিন টিকবে বলে মনে হয় না। সেইদিন আর দূরে নেই যখন ট্রাম দেখতে যেতে হবে মিউজিয়ামে।’