
শেষ আপডেট: 21 September 2023 09:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশদের নিয়ে এই সমাজে অভিযোগের কমতি নেই সাধারণ মানুষের। আসলে পুলিশদের কাজটাই তেমন। কঠোর, কঠিন মনোভাব নিয়ে তাঁদের কাজ করতে হয়। সেখানে আবেগ চলে না, মন কাজ করে না। কিন্তু একজন পুলিশের ভিতরেও যে শিল্পীমন লুকিয়ে থাকতে পারে, সেটাই যেন প্রমাণ করছেন জেমস লং ট্রাফিক (traffic) গার্ডের কনস্টেবল (Kolkata Police) সুকুমার মণ্ডল। যে হাতে সকাল থেকে সন্ধে অবধি লাঠি তুলে ট্রাফিক পুলিশের কাজ সামলান, রাতে সেই হাতেই তিনি তুলে নেন রং-তুলি। আপন খেয়ালে গড়ে তোলেন প্রতিমা (idol)। বাঁশদ্রোণীর রেনিয়া এলাকায় ছোট্ট একটা স্টুডিও রয়েছে সুকুমারবাবুর। ট্রাফিক পুলিশের পোশাক ছেড়ে সেইখানেই মূর্তি তৈরির কাজে ডুবে যান শিল্পী সুকুমার।
সুকুমার মণ্ডল বলেন, “ছাত্রাবস্থা থেকে প্রতিমা গড়ায় আমার আগ্রহ। ক্লাস ফাইভে পড়াকালীন স্কুল থেকে ফেরার পথে পাড়ার ঠাকুর তৈরির স্টুডিওতে ঢুকে পড়তাম। সেখানেই বসে বসে প্রতিমা গড়া দেখতাম। ক্লাস এইটে পড়ার সময় একদিন নিজেই কালী মূর্তি তৈরি করলাম। এরপরের বছরই পাড়ার ক্লাবের জন্য থিমের প্রতিমা গড়ার বায়না পাই আমি। এরপর একে একে সরস্বতী, বিশ্বকর্মা-সহ আরও অনেক প্রতিমা গড়ার বরাত আসতে শুরু করে।”
সেইসময় থেকেই মূর্তি তৈরির কাজ গুরুত্ব সহকারে করতে শুরু করেন সুকুমারবাবু। পড়াশোনার মাঝেই প্রতিমা গড়তেন। এরপর সেগুলি নিয়ে বাঁশদ্রোণী বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যেতেন। কিন্তু তখনও দুর্গামূর্তি তৈরি করা হয়নি। সেই সুযোগ চলে আসে ক্লাস টুয়েলভে পড়ার সময়। পাড়ারই এক বারোয়ারি ক্লাব তাঁর কাছে দুর্গা প্রতিমা তৈরির বায়না নিয়ে আসে। সুযোগ পেয়ে হাতছাড়া করেননি তিনি। সেটাই যেন ছিল একজন শিল্পী হিসাবে সুকুমারবাবুর অগ্নিপরীক্ষা। বরাত নিয়ে তিনি সোজা হাজির হন প্রবীণ প্রতিমাশিল্পী নটু সমাদ্দারের কাছে। তাঁর কাছেই প্রতিমার চোখ আঁকায় হাতেখড়ি হয় শিল্পীর। সেখানেই শিখে নেন বড় প্রতিমার বাঁশ-খড় বাঁধার নানা কৌশল।
যখন ঠিক করলেন এবার এই মূর্তি বানানোটাই পেশা হিসাবে নেবেন, ঠিক তখনই বিপত্তি। হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়লেন সুকুমার মণ্ডলের মা। শেষে বাধ্য হয়ে চাকরির খোঁজ শুরু করলেন। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা দিতে শুরু করলেন। এরপর ২০০৯ সালে কলকাতা পুলিশে সিলেক্টেড হন তিনি। তারপর কাজে যোগ দেন ২০১১-তে। ওইসময় বছর দু-এক প্রতিমা গড়া একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। তবে বিগত কয়েকটা বছর কাজের দিকটা সামলে নিয়ে এবার আবার হাত লাগিয়েছেন ঠাকুর গড়ার কাজে। সুকুমারবাবু বললেন, “এখন কাজ থেকে ফিরে রাতে স্টুডিওতে মূর্তি তৈরি করি। পরিচিতরা অনেকেই আমায় প্রতিমা গড়ার বায়না দেয়। এবছর যেমন ৯টা দুর্গামূর্তি তৈরি করছি।” এই কাজে তিনি উৎসাহ পান ট্রাফিক গার্ডের সহকর্মীদের কাছেও।
কলকাতায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মেট্রো স্টেশনের কাজ শুরু হল, সৌধের উল্টোদিকেই হবে গেট