দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্দান্ত সাফল্য কলকাতা পুলিশের! সাইবার সেলের দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় ফের একটি মাইলস্টোন তৈরি করল লালবাজার। তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের তৎপরতাও উল্লেখ করার মতো ছিল সোমবার রাতে। সব মিলিয়ে একটা তরুণ প্রাণকে আত্মহত্যা করার হাত থেকে বাঁচানো গেল শহরের বুকে।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ কলকাতার পিকনিক গার্ডেন রোডের এক যুবক ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানায়, সে আত্মহত্যা করতে চলেছে। এই পোস্টটি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে কোনও ভাবে। তার পরেই তারা কলকাতা পুলিশকে ই-মেল করে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের ই-মেল পেতেই নড়েচড়ে বসে লালবাজার।
মধ্যরাতে শুরু হয় আত্মহত্যা রোখার অপারেশন।
তুরন্ত গতিতে খবর দেওয়া হয় সাইবার সেলে, অফিসাররা নিমেষে ছানবিন করে ফেলেন ওই যুবকের প্রোফাইলটি। সাইবার সেলের বিশেষজ্ঞরা আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে দেখতে পায় ওই যুবকের বাড়ি কলকাতার পিকনিক গার্ডেনে। পাওয়া যায় নির্দিষ্ট ঠিকানাও। দেখা যায়, কসবা থানার আওতায় পড়ছে যুবকের বাড়ি। সঙ্গে সঙ্গে খবর পৌঁছে যায় এতটুকু সময় নষ্ট না করে। কসবা থানার ওসি মানবচন্দ্র দাসের তৎপরতায় গোটা টিম পৌঁছে যায় যুবকের বাড়িতে। কিন্তু যুবক তো বাড়িতে নেই!
ফের শুরু হয় ট্র্যাকিং। যুবকের বাড়িতে ছিলেন তাঁর মা। মায়ের কাছ থেকে ছেলের ফোন নম্বর নিয়ে, টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করতে শুরু করে সাইবার সেল। বেশি ক্ষণ লাগে না সঠিক অবস্থান জানতে। বন্ডেল রোড এলাকায় রেললাইনের কাছে ছিলেন তিনি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যায় পুলিশ, উদ্ধার করা হয় তাঁকে।
তদন্তকারী এক অফিসারের কথায়, "উনি খুবই অবসন্ন ছিলেন। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, মানসিক ভাবে সুস্থিতি নেই। পরে আরও কথা বলে আমরা জানতে পারি, ওঁর মানসিক সমস্যা রয়েছে। আমরা ওখানেই যতটা সম্ভব কাউন্সেলিং করি ওঁর। ওঁকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিই। পরিবারের সদস্যদেরও জানাই, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন উনি। ওঁরা মনোবিদের সাহায্য নেবেন বলে জানিয়েছেন।"
পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবক নানান কারণে অবসাদে ভুগছেন। বাড়ির লোকজনও সবটা বুঝতে পারেননি এত দিন ধরে। লালবাজারের পক্ষ থেকেই নিয়মিত কাউন্সেলিং করানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে ওই যুবকের পরিবারকে।
এমনিতেই ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট দেখে, ধর্মীয় উস্কানি, রাজনৈতিক হিংসা, ব্যক্তিগত হুমকি, অশ্লীল প্রস্তাব-- ইত্যাদি হাজারও অপরাধ ট্র্যাক করে তা রুখে দেওয়ার মতো বহু নজির রয়েছে লালবাজার সাইবার সেলের। কিন্তু আত্মহত্যা ঠেকিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটল এই প্রথম। সোমবার রাতের এই ঘটনায় শহরবাসীর ভরসা আরও একটু বাড়িয়ে দিল কলকাতা পুলিশ।