দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফান্ড মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভুবনেশ্বরে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু কলকাতা পুলিশ কোনও এসকর্ট দিতে না পারায় আলিপুরের প্রেসিডেন্সি জেল থেকে ভুবনেশ্বরে নিয়েই যাওয়া গেল না রোজভ্যালি কর্তাকে! কারণ, কলকাতা পুলিশের আশঙ্কা ভুবনেশ্বরে নিয়ে গেলে গৌতম কুণ্ডুকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে পারেন আমানতকারীরা। এবং দুই, বাংলার লাগোয়া রাজ্য ওড়িশার ভূখণ্ডের ব্যাপারে নাকি কলকাতা পুলিশের অফিসার ও বাহিনীর বিশেষ ধারনাই নেই।
কলকাতা পুলিশের এই বক্তব্যকে চিটফান্ড কান্ডের তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে অসহযোগিতা হিসাবেই দেখছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির এক অফিসারের কথায়, এটা যে স্রেফ অজুহাত তা ছোট শিশুও বুঝবে।
গৌতম কুণ্ডুকে কেন এসকর্ট দেওয়া যায়নি তা ভুবনেশ্বর স্থিত সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক গোপাল চন্দ্র বেহেরাকে রেডিওগ্রামে সবিস্তারে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারিনটেন্ডেন্ট। তিনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন অনেকের মতে তা বেশ অবাক করার মতোই। ওই রেডিওগ্রামে জেল সুপার লিখেছেন, ভুবনেশ্বর আদালতে গৌতম কুণ্ডুকে পেশ করার জন্য কলকাতার রিজার্ভ পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের কাছে এসকর্ট চেয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু রিজার্ভ পুলিশের ডেপুটি কমিশনার তাঁকে অপারগতার কথা জানিয়ে দেন। সেই সঙ্গে রিজার্ভ পুলিশের ডিসি চিঠিতে বলেছেন, ওই বিচারাধীন ব্যক্তি তথা গৌতম কুণ্ডু পনজি স্কিম ও বেআইনি টাকা লেনদেনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সে কারণে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ওই রাজ্যের (পড়ুন ওড়িশার) অনেক মানুষের তার উপর রাগ রয়েছে। ফলে তাকে নিয়ে ভুবনেশ্বরে পৌঁছনোর পর বিক্ষোভের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তা ছাড়া কলকাতা পুলিশের অফিসারদের ও বাহিনীর ওড়িশার ভূখণ্ড নিয়ে বিশেষ জানা নেই। তাই তাকে নিয়ে সেখানে পৌঁছলে অপ্রীতিকর কিছু ঘটে যেতে পারে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, বাংলা সীমান্ত পর্যন্ত তো এই রাজ্যের পুলিশ দায়িত্ব নিতে পারে। তার পরে ওড়িশার সীমান্ত থেকে ওড়িশা পুলিশের সহায়তা চাওয়া হল না কেন সরাসরি?
এই বিষয় নিয়ে কলকাতা পুলিশের ডিসি (রিজার্ভ ফোর্স, লালবাজার) দ্য ওয়ালকে টেলিফোনে জানান, "এই ধরনের আসামিকে (পড়ুন গৌতম কুণ্ডু) বাইরে নিয়ে যেতে হলে তাঁর নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে আমরা সেখানকার পুলিশের সাপোর্ট চাই সাধারণত। এটাই নিয়ম। তাছাড়া আসামি দূরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত ট্রেনে করেই নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু যেহেতু এখন করোনা ও তার জেরে লকডাউন, তাই ট্রেন চলছে না। ফলে আমাদের গাড়িতে করে নিয়ে যেতে হবে। তাই আমরা সেখানকার পুলিশের সাপোর্ট চেয়েছিলাম, কিন্তু এখনও কিছু জানানো হয়নি।"
চিটফাণ্ড কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে অতীতে একাধিক মামলা হয়েছিল। কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান ও সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য যেমন মামলা করেছিলেন, তেমনই ওড়িশা থেকেও জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। ওই মামলার ভিত্তিতে সামগ্রিক ভাবে চিটফান্ড তদন্তে সিবিআই মামলার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
এই তদন্ত মামলায় বিশেষ সিবিআই আদালত তৈরি হয়েছে ভুবনেশ্বরে। ফলে চিটফান্ড কান্ডে ধরপাকড় হলে ভুবনেশ্বর আদালতে তোলা হচ্ছে অভিযুক্তদের। যেমন অতীতে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বা চিত্র প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতাকে ভুবনেশ্বর আদালতে তোলা হয়। তার পর তাঁদের ভুবনেশ্বর জেলে রাখা হয়েছিল। সুদীপবাবু জামিনে ছাড়া পেলেও শ্রীকান্ত মোহতা এখনও সেখানেই জেল হেফাজতে রয়েছেন।
তবে চিটফান্ড কাণ্ডে অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন বা গৌতম কুণ্ডুদের আগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। সেই কারণে তাদের এই রাজ্যেই জেল হেফাজতে রাখা হয়েছে। সিবিআই মামলার কারণে প্রয়োজনে ভুবনেশ্বর আদালতে পেশ করার কথা। এ ব্যাপারে আদালত কবে পরবর্তী ডেট দেয় এখন সেটাই দেখার।