
সুজীব কর - নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 15 March 2025 21:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্চ মাসেই রাজ্যের একাধিক জেলায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে (Weather Update)। ইতিমধ্যে তাপপ্রবাহের (Heatwave) সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, আগামী এপ্রিল, মে বা জুন মাসে কী অবস্থা হবে রাজ্যবাসীর। আমজনতা এখন থেকেই বুঝে গেছে যে চলতি বছর আরও বেশি করে গরমের দাবদাহে জ্বলতে হবে। আবহাওয়াবিদ সুজীব কর (Sujib Kar) এই ইস্যুতেই চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী সপ্তাহে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গে। তবে স্বস্তি মিলবে না। কারণ তারপর থেকে আরও তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, সেই বিষয়ে জানতে আবহাওয়াবিদ সুজীব করের কাছে পৌঁছে গেছিল দ্য ওয়াল। তিনি স্পষ্টত জানালেন, এবার কলকাতায় ৪৫ ডিগ্রি হতে পারে তাপমাত্রা!
অন্যান্য বছর দেখা যায়, দোল পর্যন্ত একটা শিরশিরানি ভাব থাকে। দোল মিটলে ধীরে ধীরে গরম পড়তে থাকে। কিন্তু চলতি বছর, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই কার্যত গরমে নাজেহাল হতে হচ্ছে বঙ্গবাসীকে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল?
দ্য ওয়ালকে আবহাওয়াবিদ সুজীব কর বলেন, ''এই মুহূর্তে বঙ্গোপসাগরের জলের তাপমাত্রা ভূমিভাগের থেকে অনেক বেশি। সে কারণে সক্রিয়ভাবে তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপ। যাকে অতিক্রম করে ভূমিভাগ জলীয় বাষ্পকে টেনে নিতে পারছে না। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রতীপ ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করার ফলে ভূমিভাগ থেকে বায়ু জলভাগে আসছে। বঙ্গোপসাগরের উত্তর অংশ এই অবস্থায় সক্রিয় থাকায় উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক এবং উষ্ণ বায়ু ভূমিভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে, বঙ্গোপসাগরের দিকে আসছে। সেই বায়ুর তাপমাত্রা সকলে অনুভব করছি।''
হাওয়া অফিসে জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ বা ৪ ডিগ্রি বেশি রয়েছে তাপমাত্রা। আগামী দিনে তা আরও বাড়তে পারে। আর সুজীব কর জানাচ্ছেন, স্থানীয়ভাবে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার ফলে সাময়িক স্বস্তি হয়তো মিলবে, হালকা-মাঝারি বৃষ্টি হবে। কিন্তু তীব্র গরমের পরিস্থিতি টানা জুন মাস পর্যন্ত চলবে। ২৩ মার্চের পর থেকে বাড়বে গরম।
গত বছর কলকাতায় ৪৩ ডিগ্রির কাছকাছি তাপমাত্রা পৌঁছেছিল। কোনও কোনও জেলায় তার থেকে বেড়ে গেছিল পারদ। এবার শহরের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছুঁতে পারে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন সুজীব কর। তিনি জানান, মার্চের ২৪-২৫ তারিখের পর থেকেই পুরোপুরিভাবে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হবে। কলকাতাতেও তাপপ্রবাহ হবে। গোটা দক্ষিণবঙ্গের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলে কার্যত হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।