
শেষ আপডেট: 6 April 2023 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের যুগ থেকেই একের পর এক মারণ ছত্রাকের (Fungus) সংক্রমণ বাড়ছে। মানুষের শরীরে কখনও সংক্রমণ ছড়ায়নি বা ছড়াতে পাড়েনি এমন ছত্রাকও এখন মারণ রোগের কারণ হয়ে উঠছে। বিশ্বে প্রথমবার আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে কলকাতায়। মারণ ছত্রাকের বিষে ( fungal infection ) আক্রান্ত হয়েছেন শহরেরই এক উদ্ভিদবিদ। তাঁর গলায় মারাত্মক ঘা হয়েছে, কথাই বলতে পারছেন না তিনি। সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ।

গবেষকের নাম প্রকাশ্যে আসেনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বিরল প্রজাতির ছত্রাকে আক্রান্ত হয়েছেন ওই গবেষক। পেশায় তিনি মাইকোলজিস্ট। অর্থাৎ মাশরুম ও নানা প্রজাতির ছত্রাক নিয়ে গবেষণা করেন। জানা গেছে, ছত্রাক নিয়ে গবেষণার সময়েই এক বিরল প্রজাতির ছত্রাকের বিষে আক্রান্ত হন তিনি। সিটি স্ক্যান করে ধরা পড়েছে তাঁর গলা ও বুকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। গলায় দগদগে ঘা দেখা দিয়েছে, খাবার খেতে, কথা বলতে পারছেন না তিনি। শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে। শরীরের আর কোথায় কোথায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে তা পরীক্ষা করে দেখছেন ডাক্তাররা।

মেডিক্যাল মাইকোলজি (Medical Mycology) জার্নালে এই কেস রিপোর্টের কথা ছাপা হয়েছে। জানা গেছে, কন্ড্রোস্টেরিয়াম পারপিউরিয়াম (Chondrostereum purpureum) নামে একধরনের ছত্রাকের বিষ ঢুকেছে ৬১ বছরের গবেষকের শরীরে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগীর ডায়াবেটিস, এইচআইভি, কিডনি রোগ, কোনও ক্রনিক অসুখের ইতিহাস নেই। তিনি বিভিন্ন গাছপালা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন। ছত্রাক নিয়েও কাজ করছেন তিনি। এই বিষয়ে তাঁর একাধিক রিসার্চ পেপার আছে।

কন্ড্রোস্টেরিয়াম পারপিউরিয়াম এমন এক ধরনের ছত্রাক যা মানুষের শরীরে কখনও সংক্রমণ ছড়ায়নি। উদ্ভিদের নানা রোগের জন্য দায়ী এই ছত্রাক। এর সংক্রমণ হলে গাছপালার 'সিলভার লিফ' রোগ হয়। কিন্তু মানুষের শরীরে এমন রোগ আগে কখনও হয়নি। প্রথমবার কলকাতার গবেষকের শরীরে এই ছত্রাকজনিত সংক্রমণ ধরা পড়ল।
রোগীকে অ্যান্টিফাঙ্গাল থেরাপিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। আপাতত এক্স-রে করে আর কোনওরকম অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। রোগী সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছেন ডাক্তাররা।
বীরভূমে বিস্ফোরক উদ্ধার! জঙ্গিযোগে এনআইয়ের জালে রাজ্যের প্রাক্তন অধ্যাপক