ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 February 2025 09:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুমোরটুলিতে (Kumortuli Incident) ট্রলি ব্যাগে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে দু'জনকে। আরতি ঘোষ ও ফাল্গুনী ঘোষ মধ্যমগ্রামের (Madhyamgram) বীরেশপল্লি এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার সাতসকালে একাধিক সংবাদমাধ্যমে কুমোরটুলির ঘটনার কথা জানাজানি হতেই মুখ খোলেন প্রতিবেশিরা। অভিযোগ, মা ও মেয়ের উশৃঙ্খল জীবনে রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তাঁরা।
নিহত মহিলা ফাল্গুনীর পিসিশাশুড়ি। কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) হোমিসাইড শাখার প্রাথমিক তদন্ত বলছে, মধ্যমগ্রামের বাড়িতেই তাঁকে খুন করেন ফাল্গুনী। সঙ্গ দেন তাঁর মা। তবে জানা গেছে, খুনের আগে তিনজনের মধ্যে বচসা হয়েছিল। রাগের জেরে পিসিশাশুড়ির মাথায় ইট মেরে ফাল্গুনী খুন করেন তাঁকে। কিন্তু কেন এমন পরিকল্পনা ফাল্গুনী ঘোষ এবং তাঁর মা আরতি ঘোষের? সম্পত্তির জন্যই কি খুন? যা নিয়ে ধন্দে পুলিশ। সময় যত গড়াচ্ছে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলে খবর।
পুলিশ জানতে পেরেছে, অসমের যোরহাট এবং কলকাতায় কিছু সম্পত্তি রয়েছে নিঃসন্তান সুমিতা ঘোষের। সে কারনেই তাঁকে খুন করা হয়েছে কি না, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সে কথা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। বুধবার ঘটনার তদন্তে নতুন কোনও তথ্য উঠে আসে কি না, সেদিকে নজর থাকবে।
মঙ্গলবার সকালে কলকাতার কুমোরটুলি এলাকায় ট্রলি ব্যাগে করে দেহ ফেলতে গিয়ে পুলিশের জালে পাকড়াও মা আরতি ঘোষ ও মেয়ে ফাল্গুনী ঘোষ। তাঁরা দু'জনে গত আড়াই বছর ধরে মধ্যমগ্রামের বীরেশপল্লি এলাকায় একটি বাড়িভাড়া করে থাকতেন বলে খবর। তবে মঙ্গলবারের ঘটনার পর বীরেশপল্লির বাসিন্দারা মুখ খোলেন। তাঁরা জানান, মা ও মেয়ে বেলাগাম জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত ছিলেন। প্রায়ই রাতের দিকে অপরিচিত যুবকরা ওই বাড়িতে যাতায়াত করত বলে অভিযোগ।
প্রতিবেশীদের আরও অভিযোগ, গভীর রাত পর্যন্ত ওই বাড়িতে মধুচক্র চলত। তাঁরা পুরো বিষয়টি পুরসভাকে জানালেও লাভের লাভ কিছুই হয়নি। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, মধ্যমগ্রাম পুরসভার উপপ্রধান প্রকাশ রাহা বিষয়টি জানতে পারলে পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগী হন। তখন ফাল্গুনী ও আরতি প্রকাশ্যে প্রকাশকে গালিগালাজ করেন বলে খবর। ওই ভাড়াবাড়ির মালিক কলকাতায় বাস করেন। উপপুরপ্রধান বাড়ির মালিককেও বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কুমোরটুলিতে ট্রলি ব্যাগে উদ্ধার হওয়া দেহটি সুমিতার। মা-মেয়ে দু'জন মিলে তাঁকে খুন করেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে ভারতী ও ফাল্গুনী একটি ট্রলি ব্যাগে সুমিতার দেহ প্লাস্টিকে মুড়ে বীরেশপল্লি থেকে একটি ভ্যানে চেপে তারা প্রথমে মধ্যমগ্রাম দোলতলায় যান। সেখান থেকে একটি গাড়ি করে কাজিপাড়া রেলস্টেশনে যান। কাজিপাড়া থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন। প্রথমে প্রিন্সেপঘাটে তাঁরা দেহভর্তি ট্রলি গঙ্গায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অনুকূল পরিবেশ না পাওয়ায় মা ও মেয়ে কুমোরটুলিতে চলে যান। সেখানেই গঙ্গার ঘাটে ট্রলি ব্যাগটি ফেলার সময় দু'জন স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ে যান।
স্থানীয়দের আরও দাবি করেছেন, পাড়া-পড়শিদের সঙ্গেও তাঁদের অনেকবার ঝামেলা হয়েছে। তাই বিগত কয়েক মাস ধরে ফাল্গুনীরা কার্যত একঘরে হয়েই থাকতেন।