Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্যক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল

কারখানা মোটে ছয়, কাঁসারিপাড়ায় বিলুপ্তির পথে কাঁসা-পিতলের শিল্প

সুকমল শীল সময় বদলেছে। বদলে গিয়েছে আধুনিকতার সংজ্ঞা। আগে অন্নপ্রাশনের উপহারের থালা-বাটি ও গ্লাসের গায়ে লেখা থাকত খুকুমণি, খোকা ইত্যাদি। থাকত বিভিন্ন ফুল, লতাপাতার ডিজাইন। এছাড়াও বিয়ের দানপত্রের বাসন-কোসন থালা-বাটি ছাড়াও গৃহদেবতার পুজোর জন

কারখানা মোটে ছয়, কাঁসারিপাড়ায় বিলুপ্তির পথে কাঁসা-পিতলের শিল্প

শেষ আপডেট: 22 August 2021 12:51

সুকমল শীল

সময় বদলেছে। বদলে গিয়েছে আধুনিকতার সংজ্ঞা। আগে অন্নপ্রাশনের উপহারের থালা-বাটি ও গ্লাসের গায়ে লেখা থাকত খুকুমণি, খোকা ইত্যাদি। থাকত বিভিন্ন ফুল, লতাপাতার ডিজাইন। এছাড়াও বিয়ের দানপত্রের বাসন-কোসন থালা-বাটি ছাড়াও গৃহদেবতার পুজোর জন্যে পিলসুজ থেকে জল-ঘটি কত কী! আধুনিক নানা বিকল্পের সম্ভারে এখন এসব প্রায় স্মৃতি। তাই টিমটিম করছে কলকাতার কাঁসারিপাড়াও। আগে গোটা এলাকাজুড়ে কাঁসা-পিতলের বাসনপত্রের বহু কারখানা ছিল। এখন তা মাত্র পাঁচ-ছ'টায় এসে ঠেকেছে। গুটিকয় কারিগরের মধ্যে কয়েক পুরুষ ধরে কাজ করে চলা কাঁসা-পিতলের প্রৌঢ় শিল্পী সুবল চন্দ্র দাস। বললেন, 'নবাবি আমলে এই পাড়ায় কাঁসা-পিতলের কারখানা গড়ে উঠতে শুরু করে। সিরাজদৌল্লা-সহ অবিভক্ত বাংলার বহু নবাবের বাড়িতে এখান থেকে বাসনপত্র যেত। সেই ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে শশীভূষণ, উমাপদদের আমলে। এঁরা ছিলেন সেসময়ের বড় কাঁসারি। তারপর ছিলেন দুলালচন্দ্র প্রামাণিকের মতো কাঁসারি। এদের কারখানায় কয়েকশো কারিগর কাজ করতেন। বাসন তৈরির আওয়াজে কান পাতা যেত না এলাকায়। এখন আর কিছুই নেই। নামেই কাঁসারি পাড়া।' এখন সিমলা কাঁসারিপাড়ায় তিরিশ-চল্লিশ জন কারিগর রয়েছেন। কারখানাগুলিও অনিয়মিত। এলাকার লোকজনের আপত্তিতে বহুবছর ধরেই বন্ধ বড় গামলা, বালতি তৈরির কাজ। তাতে নাকি প্রচুর বায়ু ও শব্দদূষণ হয়। পাশাপাশি তামা-টিন-দস্তা গলানোর জন্য ব্যাপক দূষণ হয় বলেও অভিযোগ উঠছিল বহুদিন ধরে। তাই ধীরে ধীরে কোনঠাসা হতে শুরু করে এই শিল্প। এখন কাঁসার বাসনের আর চল নেই, তাই শেষের প্রহর গুনছেন গুটিকয়েক কারখানার শিল্পী-কারিগররা।মেশিনে তামার পাত তৈরি করতে করতে ষাট ছুঁইছুঁই গোরাচাঁদ চৌধুরী বললেন, 'আগে এই কারখানায় কত লোক আসত। এখন আর কিছুই নেই। কাজ করলে পয়সা পাই। সরকার আমাদের দেখছে না।' নদিয়ার মাটিয়ারির তিনকড়ি মণ্ডল প্রায় তিরিশ বছর ধরে এই কাজ করছেন। প্রায় অন্ধকার কারখানায় বসে বললেন, 'দূষণের দোহাই দিয়ে আমাদের আগেই ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এটুকু দূষণ তো অনেক কিছুতেই হয়।' তিনকড়ি আরও বললেন, 'এখন বড় গামলা, হাঁড়ি তৈরি হয় মাটিয়ারিতেই। পুরোনো কারিগররাই টিকিয়ে রেখেছেন। নতুন প্রজন্মের প্রায় কেউই আর এই পেশায় নেই।' এই আধুনিক নিত্য পরিবর্তশীল সময়ে পিতল-কাঁসার তৈরি সামগ্রীর ভবিষ্যৎ কী? তিনিকড়ি বললেন, এ যুগে এর ব্যবহার কমেছে সেটা সত্যি। এর জন্য ব্যবহারিক সমস্যাও কিছু রয়েছে। পিতল কাঁসার পাত্রকে ব্যবহারের আগে ও পরে বার বার মাজতে হয়। এমন তড়িৎ গতির যুগে সে সময় কোথায়? কিন্তু এই কারবার শেষ হয়ে যায়নি। হয়তো হবেও না।' কারখানার হাপরের আগুনের দিকে তাকিয়ে আশার কথা কথা শোনালেন তিনি।

```