
শেষ আপডেট: 22 August 2021 12:51
গুটিকয় কারিগরের মধ্যে কয়েক পুরুষ ধরে কাজ করে চলা কাঁসা-পিতলের প্রৌঢ় শিল্পী সুবল চন্দ্র দাস। বললেন, 'নবাবি আমলে এই পাড়ায় কাঁসা-পিতলের কারখানা গড়ে উঠতে শুরু করে। সিরাজদৌল্লা-সহ অবিভক্ত বাংলার বহু নবাবের বাড়িতে এখান থেকে বাসনপত্র যেত। সেই ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে শশীভূষণ, উমাপদদের আমলে। এঁরা ছিলেন সেসময়ের বড় কাঁসারি। তারপর ছিলেন দুলালচন্দ্র প্রামাণিকের মতো কাঁসারি। এদের কারখানায় কয়েকশো কারিগর কাজ করতেন। বাসন তৈরির আওয়াজে কান পাতা যেত না এলাকায়। এখন আর কিছুই নেই। নামেই কাঁসারি পাড়া।'
এখন সিমলা কাঁসারিপাড়ায় তিরিশ-চল্লিশ জন কারিগর রয়েছেন। কারখানাগুলিও অনিয়মিত। এলাকার লোকজনের আপত্তিতে বহুবছর ধরেই বন্ধ বড় গামলা, বালতি তৈরির কাজ। তাতে নাকি প্রচুর বায়ু ও শব্দদূষণ হয়। পাশাপাশি তামা-টিন-দস্তা গলানোর জন্য ব্যাপক দূষণ হয় বলেও অভিযোগ উঠছিল বহুদিন ধরে। তাই ধীরে ধীরে কোনঠাসা হতে শুরু করে এই শিল্প। এখন কাঁসার বাসনের আর চল নেই, তাই শেষের প্রহর গুনছেন গুটিকয়েক কারখানার শিল্পী-কারিগররা।
মেশিনে তামার পাত তৈরি করতে করতে ষাট ছুঁইছুঁই গোরাচাঁদ চৌধুরী বললেন, 'আগে এই কারখানায় কত লোক আসত। এখন আর কিছুই নেই। কাজ করলে পয়সা পাই। সরকার আমাদের দেখছে না।'
নদিয়ার মাটিয়ারির তিনকড়ি মণ্ডল প্রায় তিরিশ বছর ধরে এই কাজ করছেন। প্রায় অন্ধকার কারখানায় বসে বললেন, 'দূষণের দোহাই দিয়ে আমাদের আগেই ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এটুকু দূষণ তো অনেক কিছুতেই হয়।'
তিনকড়ি আরও বললেন, 'এখন বড় গামলা, হাঁড়ি তৈরি হয় মাটিয়ারিতেই। পুরোনো কারিগররাই টিকিয়ে রেখেছেন। নতুন প্রজন্মের প্রায় কেউই আর এই পেশায় নেই।'
এই আধুনিক নিত্য পরিবর্তশীল সময়ে পিতল-কাঁসার তৈরি সামগ্রীর ভবিষ্যৎ কী? তিনিকড়ি বললেন, এ যুগে এর ব্যবহার কমেছে সেটা সত্যি। এর জন্য ব্যবহারিক সমস্যাও কিছু রয়েছে। পিতল কাঁসার পাত্রকে ব্যবহারের আগে ও পরে বার বার মাজতে হয়। এমন তড়িৎ গতির যুগে সে সময় কোথায়?
কিন্তু এই কারবার শেষ হয়ে যায়নি। হয়তো হবেও না।' কারখানার হাপরের আগুনের দিকে তাকিয়ে আশার কথা কথা শোনালেন তিনি।