
শেষ আপডেট: 12 April 2023 10:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং দুই চিকিৎসকের গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল কলকাতার নামকরা বেসরকারি 'মাল্টিস্পেশালিটি' হাসপাতালের বিরুদ্ধে (Kolkata private hospital)। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক এবং হাসপাতালকে মৃতের পরিবারকে মোট ৬০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিল ন্যাশনাল কনজিউমার ডিস্পিউটস রিড্রেসাল কমিশন (hospital and Doctors Asked To Pay Rs60 Lakh)। এর মধ্যে ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে হাসপাতালকে এবং বাকি ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে দুই চিকিৎসককে।
২০০৮ সালের ৯ জুলাই মৃত্যু হয়েছিল কলকাতার বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সি এক সফ্টওয়ার ইঞ্জিনিয়ারের। ক্যান্সারে আক্রান্ত ওই যুবককে প্রাথমিকভাবে ভর্তি করা হয়েছিল ওই বেসরকারি হাসপাতালে। অভিযোগ, ভুল পদ্ধতিতে ইনজেকশন দেওয়ার কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালের তরফেই তাঁকে মুম্বইয়ের একটি ক্যানসার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রেফার করা হয়। তাঁকে এয়ারলিফট করে নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বইয়ের ওই হাসপাতালে। ৪ দিন পর তাঁকে কলকাতার অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ৯ জুলাই সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
স্বামীর মৃত্যুর আগেই প্রথম বেসরকারি হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্ত্রী। রোগীর মৃত্যুর পর ৩ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে ন্যাশনাল কনজিউমার ডিস্পিউটস রিড্রেসাল কমিশনে (এনসিডিআরসি) অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সব কিছু খতিয়ে দেখার পর এনসিডিআরসি জানায়, সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে যে ধরনের চিকিৎসা পরিকাঠামো থাকার কথা, অভিযুক্ত হাসপাতালে তা ছিল না। এছাড়াও একজন অঙ্কোলজিস্ট এবং এবং একজন অ্যানাস্থেসিস্টের গাফিলতিই রোগীর মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে জানায় এনসিডিআরসি (NCDRC)।
এরপরেই মৃতের পরিবারকে মোট ৬০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানায় এনসিডিআরসি। এর মধ্যে ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে, ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে অভিযুক্ত অঙ্কোলজিস্টকে এবং বাকি ২০ লক্ষ টাকা দিতে হবে অভিযুক্ত অ্যানাস্থেসিস্টকে। এছাড়াও মামলা করার খরচ হিসেবে মৃতের স্ত্রী ও সন্তানকে আরও ২ লক্ষ টাকা দিতে হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।