দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার প্রাণ বলা হয় এটিকে। কেউ কেউ শহরের ফুসফুস হিসেবেও চিহ্নিত করেন সেটি। পাখির নজরে এ শহরকে দেখলে চোখে পড়ে, এক সুবিশাল সবুজ রুমালের মতো শহরের মাঝে রাজত্ব তার। কলকাতা ময়দান। ডাকনাম গড়ের মাঠ। সেই গড়ের মাঠেই ধ্বংস হচ্ছে সবুজ, বাড়ছে আবর্জনার স্তূপ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট এবার মামলা দায়ের করল স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে।
সূত্রের খবর, এ মামলা দায়ের হয়েছে খোদ বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে। তিনি নিজেরই একটি কাজে গিয়েছিলেন কোথাও, তার পরে ফিরে আসছিলেন হাইকোর্টে। ময়দানের পাশ দিয়ে আসার সময়ে হঠাৎই সেখানে তাঁর চোখে পড়ে স্তূপাকার কাগজের ডাঁই, যত্রতত্র নোংরা পড়ে থাকা। এ দৃশ্য দেখে রীতিমতো বিরক্ত হন বিচারপতি সঞ্জীব ব্যানার্জি। অবাক হন রেড রোডের পাশে জঞ্জালও দেখেও।
শেষমেশ বিরক্ত হয়ে বিচারপতি অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ও অ্যাডভোকেট জেনারেলকে সোমবার জানিয়ে দেন, ময়দানে জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে কেন, সে বিষয়ে সুয়ো মোটো মামলা করছে হাইকোর্ট।
জানা গেছে, শুধু জঞ্জাল ফেলাই নয়, ময়দানের মধ্যে যেভাবে বেআইনি পার্কিং করা হয়, রাস্তাগুলি জুড়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে, তা নিয়েও বেজায় ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট। এই মামলায় সেনা, রাজ্য-সহ সব পক্ষকে ২৪ ডিসেম্বর শুনানিতে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্ধপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।
এদিন বিচারপতি হসপিটাল রোড, কুইনস রোড, ডাফরিন রোড, ক্যাথিড্রাল রোড, মেয়ো রোড, খিদিরপুর রোডের কথা উল্লেখ করে বলেন, "এই সব রাস্তার দুধারে বেআইনি পার্কিং চলছে। সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ নির্দেশ থাকার পরেও কীভাবে ময়দানে পার্কিং হচ্ছে?"
অন্যদিকে ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, শীতের আমেজ উপভোগ করতে প্রচুর মানুষ ময়দানে ভিড় করেছেন। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্লাস্টিক, কাগজের ঠোঙা, চায়ের কাপ ইত্যাদি। ময়দানের পাশে সার দিয়ে থাকা কালো বাইকের সংখ্যা দেখলে মনে হবে ময়দানে বুঝি মেলা বসেছে। এখন দেখার, ২৪ তারিখের শুনানিতে কী বলে আদালত।