কলকাতায় ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপারেশন চলল রাতভর, ৭২ ঘণ্টা দেখতে চান চিকিৎসকেরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুসফুস প্রতিস্থাপনের ইতিহাস তৈরি হল কলকাতায়। পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই গোটা পূর্ব ভারতে প্রথম ফুসফুস প্রতিস্থাপনের জটিল অস্ত্রোপচার হল কলকাতার মুকুন্দপুরে মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।
তবে এখনই প্রতিস্থাপন সফল বলছেন না চি
শেষ আপডেট: 21 September 2021 06:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুসফুস প্রতিস্থাপনের ইতিহাস তৈরি হল কলকাতায়। পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই গোটা পূর্ব ভারতে প্রথম ফুসফুস প্রতিস্থাপনের জটিল অস্ত্রোপচার হল কলকাতার মুকুন্দপুরে মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।
তবে এখনই প্রতিস্থাপন সফল বলছেন না চিকিৎসকরা। পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাবাচ্ছে ফাইব্রোসিস। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন একমোয় থাকার ফলে রক্তক্ষরণের একটা সম্ভাবনা থাকে। সেইসঙ্গে অন্য কোনও জটিলতা তৈরি হয়। তাই ওই ব্যক্তিকে আপাতত নজরে রাখছেন চিকিৎসকরা।
সোমবার রাত ১০টা নাগাদ সুরাট থেকে ব্রেন ডেথ রোগীর ফুসফুস এসে পৌঁছয় কলকাতা বিমানবন্দরে। আগে থেকেই তৈরি ছিল অ্যাম্বুল্যান্স ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা। গ্রিন করিডর করে ফুসফুস নিয়ে যাওয়া হয় মেডিকায়। গতকাল ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অস্ত্রোপচার চলেছে। রাজ্যের প্রথম যে ফুসফুস প্রতিস্থাপন হয় ৪৬ বছরের ওই ব্যক্তির দেহে। করোনার পর ১০৩ দিন ধরে একমো সাপোর্টে ছিলেন তিনি। ডাক্তার কুণাল সরকারের নেতৃত্বে অস্ত্রপচারের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক অর্পণ চক্রবর্তী, চিকিৎসক সপ্তর্ষি রায়, চিকিৎসক সৌম্যজিৎ ঘোষ, চিকিৎসক দেবাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: পূর্ব ভারতের প্রথম ফুসফুস প্রতিস্থাপন আজ রাতে কলকাতায়
ফুসফুস প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া শেষ। তবে পোস্ট-সার্জারি পর্যায়টাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার। প্রতিস্থাপিত ফুসফুস শরীরে কতটা কার্যকরী হচ্ছে সেটাই জরুরি বিষয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা কতটা স্থিতিশীল সে বিষয়ে হাসপাতালের তরফে এখনও কোনও খবর মেলেনি। শুধু জানা গেছে, রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
যে রোগীর শরীরে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তিনি গত ১০৩ দিন ধরে ইকমো সাপোর্টে রয়েছেন। ইকমো হল ‘একস্ট্রা-কর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন’ পদ্ধতি। একে ‘একস্ট্রা-কর্পোরিয়াল লাইফ সাপোর্ট’ (ECLS) বলা হয়। হার্ট ও ফুসফুসের রোগে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করেন ডাক্তাররা। শ্বাসপ্রশ্বাসে যখন স্বাভাবিক ভাবে অক্সিজেন ঢুকতে পারে না শরীরে, এমন ভেন্টিলেটরের মতো যান্ত্রিক পদ্ধতিতেও কাজ হয় না, তখন কৃত্রিমভাবে এই পদ্ধতিতে শরীরে অক্সিজেন ঢোকানো হয়।
পশ্চিমবঙ্গে এতদিন ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার হত না। সরকারি অনুমতি, হাসপাতালগুলির পরিকাঠামোর অভাব ইত্যাদি নানা কারণে থমকে ছিল। ফুসফুস প্রতিস্থাপন করতে হলে লাইসেন্স দরকার হয়। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে হাসপাতালের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে প্রতিস্থাপন কমিটির সঙ্গে আলোচনার পরেই এই লাইসেন্স দেওয়া হয়। কলকাতার অনেক হাসপাতালই এখন এই লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। এই সার্জারি সফল হলে প্রথমবার ফুসফুস প্রতিস্থাপনের নজির তৈরি হবে কলকাতাতেই।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'