
শেষ আপডেট: 4 July 2022 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদ্যুতের খুঁটিতে অন্ত্রের নাড়ির মতো জট পাকিয়ে আছে তার। কোনটা কীসের, বোঝার উপায় নেই। যে যেভাবে পেরেছে, বাড়ি-দোকানে টেনে নিয়েছে তারের সংযোগ। কোথাও কোথাও তার ছিঁড়ে ঝুলছে। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় তারের জঞ্জাল। শহরবাসীর আশঙ্কা, এই বর্ষায় ফের মৃত্যু হতে পারে। (Kolkata Electrocuted)
রাস্তার বিদ্যুতের খুঁটির মাধ্যমে ইন্টারনেট লাইন, কেবল লাইন, টেলিফোন সংযোগের তার টানা হয়েছে। আর অলিগলিতে ইন্টারনেটের তারের সঙ্গে আছে কেবল সংযোগের তার। ব্যস্ত এলাকাগুলোয় জালের মতো ঝোলানো অসংখ্য তার ও তারের কয়েল। যে কারণে, বাড়ছে ঝুঁকি। শহরে ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দু'জন কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। তাও হুঁশ ফেরেনি প্রশাসনের। বিভিন্ন জনবহুল এলাকার রাস্তায় চোখে পড়ছে তার জড়ানো বিপজ্জনক বাতিস্তম্ভ, বিদ্যুতের ধাতব খুঁটি।

রাজাবাজার (Rajabazar) এলাকার ব্যবসায়ী ফয়েজ আহমদ সোমবার বললেন, 'প্রায়ই দোকানের সামনে ডিশ লাইন, ইন্টারনেটের তার ঝুলে থাকে। কারও চোখে-মুখে লাগে। অনেক সময় মাটিতে পড়ে থাকে। কারও পায়ে লাগে। বিভিন্ন সময় আমরা কোনো রকম এগুলো গুছিয়ে রাখি।’
কাছেই দেখা গেল একটি বাসস্টপের সামনে তার জড়ানো বিদ্যুৎতের খুঁটি। যার পাশে জল জমে রয়েছে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা। নারকেলডাঙ্গা এলাকার রাজা রাজেন্দ্র স্ট্রিটের বাসিন্দা জামাল মিয়া বললেন, বিভিন্ন তার বিশৃঙ্খল অবস্থায় ঝুলে আছে। অনেক সময় গাড়িতে লেগে তার ছিঁড়ে পড়ে। রিকশা, গাড়ির সামনে ঝুলে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।'

গত শনিবার এখানেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে মহম্মদ ফাইজার নামে এক বছর তেরোর কিশোরের। এদিন সেখানে গিয়ে দেখা গেল বিদ্যুৎ পরিবাহী বাতিস্তম্ভটিকে গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এলাকার চারিদিকেই মাকড়সার জালের মতো তারের কুন্ডলী। স্থানীয় যুবক মহম্মদ সইফ বললেন, 'বহুবার বাড়িওয়ালাদের জানিয়েও কাজ হয়নি। কোনও বাড়িতেই ঠিকঠাক মিটারবক্সের ঘর নেই। একজায়গায় মিটার, অন্য জায়গায় সংযোগ টেনে আনা হচ্ছে। খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি। বৃষ্টিতে এখানে জল জমে। সেই জলে পা দিয়ে হাঁটতে ভয় লাগে।'

কলকাতা পুরসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকায় পানীয়জলের খুবই অভাব। প্রচুর টুলু পাম্প দেখা গেল বাড়িগুলির সামনে। যেগুলির মাধ্যমে জল তোলা হচ্ছিল। যেকারণে বেআইনি ও বেপরোয়াভাবে আলাদা করে বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই তার পড়ে থাকছে রাস্তার ওপরেই। তবে এলাকার লোকজনের দাবি, এভাবে জল না তুললে খাওয়ার জল মিলবে না। তাই টুলু পাম্প ছাড়া উপায় নেই।

দু'একজনের অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই ইন্টারনেট ও কেব্ল সংযোগের তার বসানো হচ্ছে, ডিভাইস লাগানো হচ্ছে। এতে খুঁটিতে শর্টসার্কিট হচ্ছে। সেইসঙ্গে রয়েছে বিদ্যুৎ দফতরের অনুমতি ছাড়াই এসির সংযোগ। কোনও নজরদারিও নেই।
ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করতে বিশেষ তদন্তকারী কমিটি তৈরি করেছে কলকাতা পুরসভা। রিপোর্টও জমা পড়েছে। ওই কিশোরের বাড়িতে এদিনও শোকের আবহ। তাঁর মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, 'কাউন্সিলর এসে বলে গিয়েছেন ওই খুঁটি সরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আমাদের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেল।'
