দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহর কলকাতায় চার জন রোগীর করোনাভাইরাস পজ়িটিভ নির্ণীত হয়েছে এখনও পর্যন্ত। আশঙ্কার পাল্লা আরও ভারী হয়েছে। কিন্তু এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় যে ২০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল, তার মধ্যে ১৯টির ফল নেগেটিভ এসেছিল।
অর্থাৎ হাবরার তরুণী ছাড়া আরও যে ক'জন রোগীর লালারস করোনা-সন্দেহে পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছিল, তাঁরা কেউ আক্রান্ত নন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে প্রাথমিক পরীক্ষায়। তবে ওই ১৯ জনকেই কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
এর পরে দ্বিতীয় দফায় আজ আরও ৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সন্ধেবেলা আসা রিপোর্টে তার মধ্যে আটটি নেগেটিভ এলেও, একটি পজ়িটিভ মিলেছে। তিনিই এ শহরের তথা রাজ্যের চতুর্থ আক্রান্ত দমদমের প্রৌঢ়া।
তাই বেশির ভাগ রিপোর্ট নেগেটিভ আসার ফলাফল সামান্য আশাপ্রদ হলেও, আদতে যে একেবারেই খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়, তা চতুর্থ রোগী চিহ্নিত হওয়ার পরে আরওই নিশ্চিত হওয়া গেল। ফলে একটুও সুযোগ রাখার অবকাশ নেই বলেই মনে করছে স্বাস্থ্য দফতর তথা নবান্ন। সেই কারণেই ওই ১৯ জনকে ছাড়াও আরও ১১৯০ জনকে নিজের ঘরে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সন্ধেয় ধরা পড়া চতুর্থ রোগীর কোনও বিদেশ যাত্রার ইতিহাস মেলেনি এখনও। তাই অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এটাই কি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরুর ইঙ্গিত? দেশে কি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্টেজ থ্রি-তে পৌঁছে গেল?
কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা-আক্রান্ত কোনও দেশে গেলে বা করোনাভাইরাসে অসুস্থ কোনও রোগীর সংস্পর্শে এলে রোগীর দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। কিন্তু তা না করা সত্ত্বেও যদি কোনও ব্যক্তির করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তখন বলা হয় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে। এর ফলে, দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এবং স্বাভাবিক ভাবেই, শঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্য ভবনের একটি সূত্রের মতে, তাঁর শরীরে সত্যিই করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতেই দু’বার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে এখন অন্য প্রশ্নও স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের মাথায় ঘুরতে শুরু করেছে। তা হল, ওই রোগীকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত সন্দেহ না করে চিকিৎসা করছিল বেসরকারি হাসপাতাল। সে ক্ষেত্রে হাসপাতালের কেউ যদি অসাবধানতায় তাঁর সংস্পর্শে আসেন তা হলে তাঁর দেহেও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকবে।
তবে সল্টলেকের ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য ভবনকে জানিয়েছে, ওই রোগীকে যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দেখভাল করছিলেন তাঁরা সবরকমের সতর্কতা নিয়ে চলছিলেন। ওই রোগীকে এখন ইনটেসিভ কেয়ার ইউনিটে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উপর প্রতি মুহূর্তে নজর রেখে চলেছেন ডাক্তাররা।
এই সবটা মিলিয়েই নবান্নের তরফে রাজ্যজুড়ে সতর্কতা আরও প্রখর হল। পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ দিনই ঘোষণা করেছেন, বাংলায় আন্তঃরাজ্য বাস পরিবহণ আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হল। অর্থাৎ বাংলা থেকে বাইরের রাজ্যে আজ থেকে আর কোনও বাস যাবে না এবং অন্য রাজ্য থেকে কোনও বাসকে বাংলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ট্রেনে করে ভিন্ রাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের আরও ভাল করে পরীক্ষা করা হবে স্টেশনে। গত কয়েক দিনে বিদেশ থেকে আসা কোনও ব্যক্তি নিয়ম না মেনে শহরে ঘোরাফেরা করছেন কিনা, তা নিয়েও অতিরিক্ত তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ।