দ্য ওয়াল ব্যুরো : নাইট রাইডার্সের কাছে এই মরুশহর উইনিং লাক বয়ে আনতে পারে। কেননা ২০১৪ সালে তারা গৌতম গম্ভীরের অধিনায়কত্বে খেতাব পেয়েছিল আমিরশাহীতে। তাই এবারও যদি দীনেশ কার্তিকের অধিনে নাইটদের মাথায় মুকুট ওঠে বলার কিছুই থাকবে না।
সম্প্রতি দেখা গিয়েছে দুবাইতে নাইটদের শিবিরের ঘরে অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক একটা বোর্ডে ‘প্ল্যান বি’ কথাটি লিখছেন। তার মানে অনেকে বুঝবেন কৌশল একটি না খাটলে অন্যটি দিয়ে বাজিমাত করা হবে। কিন্তু সেটি নয়, কেকেআর দলনেতা জানিয়েছেন, ‘’আমার প্ল্যান ‘এ’ হল খেতাব নিয়ে এখান থেকে ফেরা। আর প্ল্যান ‘বি’ হচ্ছে ওই প্রথম লক্ষ্যে অবিচল থাকা।’’ কার্তিক নিজেও অধিনায়ক হিসেবে সফল নাইটদের সংসারে।
কেকেআর এমন একটি দল যারা চ্যাম্পিয়ন হতেই মাঠে নেমে। চেন্নাই দলের যেমন ক্যারিশমা, তেমনি একই বিষয় ঘটে শাহরুখের দলের ক্ষেত্রেও। এবার আরও ভারসাম্য রয়েছে দলে। আইপিএলের সেরা সম্ভাব্য ক্রিকেটার প্যাট কামিন্সকে দলে পেয়েছে তারা, তাও সাড়ে ১৫ কোটি টাকা দিয়ে দলে নিয়েছে। পাশাপাশি ইয়ন মরগ্যানও চোট কাটিয়ে দলে এসে যাবেন। বরুন চক্রবর্তীর মতো রহস্য স্পিনারকেও নিয়েছে নাইটরা। যাঁকে অবশ্য গত মরসুমে চেন্নাই নিয়ে খুব একটা সুবিধে পায়নি। তবুও এবার তিনি অন্য মেজাজে ধরা দেবেন না, কেউ জানে না।
এবারের নিলাম পর্বে ভালই ‘বাজার’ করেছে কেকেআর। সেই কারণেই অন্য দলের থেকে অনেকটা এগিয়ে শুরু করবে। দলের অধিনায়ক কার্তিক বলেছেন, ‘‘কঠিন সময়ে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই তাঁরা এবার আইপিএল খেলতে নামবেন। করোনা আবহের মধ্যে যখন সারা বিশ্ব আতঙ্কে রয়েছে, এমনকি ঘূর্ণিঝড় আমফানে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলা। এখনও সেই ধাক্কা পুরোপুরি সামলে ওঠা সম্ভব হয়নি বাংলার মানুষের পক্ষে। পুনর্গঠনের লড়াই চালানো বাংলার এই মানুষগুলোই নাইট রাইডার্সকে সর্বদা শক্তি জুগিয়েছেন। তাই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে তারা ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরতে চাই।’’
এমনকি আইপিএলে ইডেনের দর্শকদের কথা মনে পড়বে কার্তিকের। কেকেআর অধিপতি বলেছেন, ইডেনের গ্যালারি সবসময় খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করেন। হার-জিতের কথা না ভেবে সর্বদা ভালো ক্রিকেটকে সমর্থন করে এসেছে। নাইট রাইডার্সের কাছে ইডেনের সমর্থন সত্যিই স্পেশাল। তিনি নিশ্চিত, কলকাতার মানুষ মরুশহরেও তাদের পাশে থাকবেন। প্রসঙ্গত, ক্যারিবিয়ান লিগে নাইটরা এবার খেতাব পেয়েছে, সেই দল যদিও মরুশহরে থাকছে না, তবুও একই ফ্রাঞ্চাইজির পক্ষে এবার ট্রফি পেলে সেটি মরসুমের দ্বিমুকুট হবে।
যাঁরা ছিলেনই : শুভমান গিল, সিদ্দেশ লাড, অ্যান্দ্রে রাসেল, দীনেশ কার্তিক, রিঙ্কু সিংহ, নীতীশ রানা, সুনীল নারিন, কুলদীপ যাদব, হ্যারি গার্নি, লকি ফার্গুসন, কমলেশ নাগরকোটি, শিবম মাভি, প্রসিধ কৃষ্ণ, সন্দীপ ওয়ারিয়র।
যাঁদের এবার নেওয়া হয়েছে: প্যাট কামিন্স (১৫.৫ কোটি টাকা), ইয়ন মর্গ্যান (৫.২৫ কোটি টাকা), বরুণ চক্রবর্তী (৪ কোটি টাকা), টম ব্যান্টন (১ কোটি টাকা), রাহুল ত্রিপাঠী ( ৬০ লক্ষ টাকা), প্রবীন তাম্বে (২০ লক্ষ টাকা), এম সিদ্ধার্থ (২০ লক্ষ টাকা), ক্রিস গ্রিন (২০ লক্ষ টাকা), নিখিল নায়েক (২০ লক্ষ টাকা।