
শেষ আপডেট: 23 April 2023 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই ম্যাচ রিপোর্টের জন্য দশ ওভার শেষে কেকেআরের (KKR Vs CSK) রান দেখলেই আর কিছু বোঝার দরকার নেই।
কেকেআর (KKR) ১০ ওভারে ৭৬/৪।
চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) ১০ ওভারে ছিল ১০০/১।
একটা দল প্রথমে ব্যাটিং করে ২৩৫ রান তোলা মানে খেলার ৯০ শতাংশ জিতে গিয়েছে। বাকি কাজটার জন্য বোলাররা দশ শতাংশ দিলেই যথেষ্ট। তা রবিবার রাতের ইডেনে চেন্নাই বোলাররা আরও বেশি শতাংশ দিয়েছেন, তাতে নাইটদের ৪৯ রানে হার কলঙ্কের হয়ে থাকল।
এদিনের ম্যাচ দেখলে মনে হবে খেলাটি ইডেন নয়, হচ্ছে চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে। শুধু হলুদ আর হলুদ। একটা দলের নেতা যদি এম এস ধোনি হন, আর তিনি যদি শেষ ম্যাচ খেলেন কোনও মাঠে, যা হওয়ার তাই হয়েছে।
একদিকে প্রবল ধোনি আবেগ, অন্যদিকে কেকেআরের করুণ আত্মসমর্পণ সবদিক থেকে ইডেনকে যেন ব্যতিক্রমী করে তুলেছিল। চেন্নাইয়ের ২৩৫ রানের জবাবে কেকেআরের হার শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল। ঠিক সেটাই ঘটেছে। কেকেআর করেছে শেষপর্যন্ত ১৮৬/৮।
কলকাতার শেষ ৩০ বলে দরকার ছিল ৯৯ রান, স্ট্রাইকরেট প্রতি ওভারে দরকার ছিল ১৯ রান। সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে কেকেআরের জেসন রয় (২৬ বলে ৬১) ও রিঙ্কু সিং চেষ্টা করেছিলেন। তারপরে ধোনির দলের বোলার থিকসানা তুলে নেন রয়কে। সেইসময় রাসেলই ভরসা ছিলেন। তিনি ও রিঙ্কু (৩৩ বলে ৫৩) ফিরতে আর কোনও আশাই ছিল না।
চেন্নাইয়ের হয়ে এ ম্যাচে প্রত্যাবর্তন ঘটল অজিঙ্ক্যা রাহানের। তিনি চলতি আইপিএলে দারুণ ছন্দে। তিনি ছিলেন প্রতিভাবান সিনিয়র এক ব্রাত্য ক্রিকেটার। কিন্তু তিনি এমন জাত ব্যাটসম্যান, যিনি টেস্ট খেলতে পারেন, আবার বিনোদনের লিগও এমনভাবে খেলে দেবেন, যা দেখে সবাই চমকে যাবে।
সেটাই ইডেনে খেলেছেন রাহানে। তাঁর ২৯ বলে ৭১ রানের নায়কোচিত ইনিংসে রয়েছে ছয়টি বাউন্ডারি ও পাঁচটি ছক্কা। একেকটি ছয়ে যেন নির্বাচকদের উদ্দেশে বার্তা ছিল, আমাকে এখনও সময় রয়েছে ভারতের ওয়ান ডে এবং টি ২০ দলের জন্য মনোনীত করুন। পাশাপাশি শিবম দুবেও দেখালেন কেন তাঁকে ধোনি এত ভরসা করেন। দুবের ২১ বলে ৫০ রান চেন্নাইয়ের বড় রানে সহায়তা করেছে।
এমনকী ডেভন কনওয়ের ৪০ বলে ৫৬ রানও দলের রানকে এগিয়েছে শুরুতেই। কলকাতার বোলাররা এত পিটুনি খেয়েছেন, এদিন গ্যালারিতে শাহরুখ খান থাকলে তাঁর কাছে খুব লজ্জার হতো।
চেন্নাই বোলাররা বরং এমন একটি দিনে আরও জ্বলে উঠেছেন। শ্রীলঙ্কার মহেশ থিকসানা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই উইকেট তুলে নিয়ে তিরে বিদ্ধ করেছেন।
তার মধ্যে দলের নেতা ধোনি নিয়ে এত আবেগ ছিল যে দর্শকাসন থেকে সমানে চিৎকার হয়েছে, ধোনি, ধোনি...। ব্যাট হাতে তিনি করেছেন তিন বলে দুই রান। স্টাম্পিং কিংবা উইকেটের পিছনে ক্যাচও ধরেননি। কিন্তু মাহির ক্ল্যাসিক অধিনায়কত্ব টের পেয়েছেন দর্শকরা। নাইটদের ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়াইসকে যেভাবে রিভিউ নিয়ে আউট করলেন, তাতে ধোনির নেতৃত্ব গুণ টের পাওয়া গিয়েছে।