
শেষ আপডেট: 12 September 2023 10:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা ৪ বছর পর বিদেশ সফর বলে কথা। সেই করোনা অতিমহামারীর সময় থেকেই দেশের বাইরে পা রাখেননি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন (Kim Jong Un special train)। ৪ বছর পর যখন বেরোলেনই, তখন গেলেন একেবারে সুদূর রাশিয়ায়। রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে উত্তর কোরিয়ার অবিসংবাদী নেতার। কিন্তু প্লেনে নয়, ১১৮০ কিলোমিটার রাস্তা তিনি পার করেছেন ট্রেনে চেপে!


২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে কিম সাতবার আন্তর্জাতিক সফরে গেছেন। বেশিরভাগ বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেই এই ট্রেনটিই ছিল কিমের বিস্বস্ত বাহন। কী নেই সেই ট্রেনে! ৯০টি কামরাবিশিষ্ট সেই ট্রেন সুরক্ষার বর্মে মোড়া। আধুনিক ট্রেনের তুলনায় অনেকটাই ধীরগতিতে চলে কিমের এই রহস্যময় ট্রেন। বাইরে থেকে ট্রেনের যাত্রীদের যাতে স্পষ্টভাবে দেখা না যায়, তার জন্য জানলার কাচগুলি স্বচ্ছ নয়, বরং বিভিন্ন রঙে রঙিন।

দূরপাল্লার যাত্রার জন্য তৈরি ট্রেনটিতে এলাহি খানাপিনারও ব্যবস্থা রয়েছে। আছে গলদা চিংড়ির ভাঁড়ার, ফরাসি বোর্দো এবং বার্গ্যান্ডি রেড ওয়াইনের বিপুল স্টক। এছাড়াও ট্রেনটিতে কনফারেন্স রুম, এবং বিলাসবহুল বেডরুম রয়েছে, যেখানে স্যাটেলাইট ফোন এবং ফ্ল্যাট-স্ক্রিন টিভি ইনস্টল করা রয়েছে।
কিমের আদরের এই ট্রেনের ডাকনাম হল 'মুভিং ফোরট্রেস' অর্থাৎ চলমান দুর্গ। এই ট্রেনের প্রতিটি জানলা অত্যন্ত উচ্চমানের বুলেটপ্রুফ কাচ দিয়ে তৈরি। এছাড়া উচ্চমাত্রার বিস্ফোরণ থেকেও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রনায়ককে সুরক্ষা দিতে সক্ষম মুভিং ফোরট্রেস। এছাড়া এর ভিতরে রয়েছে অস্ত্রভাণ্ডার। বিশেষ পরিস্থিতিতে কিম যাতে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন, তার জন্য ট্রেনের ভিতরেই রয়েছে হেলিকপ্টার। এই এতকিছুর ভার সামলাতে গিয়েই গতি কমেছে ট্রেনের। বর্তমানে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে সেটি।
তবে ধীরগতি সত্ত্বেও বিমানের তুলনায় ট্রেনটির বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। প্রধানত বাইরের আক্রমণ সহ অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে বিমানের তুলনায় বেশি সুরক্ষা প্রদানে সক্ষম এই ট্রেন। সিওলের দাবি, কিমের উপর হামলা করার জন্য যদি কোনও বিমান থেকে আক্রমণ চালানো হয় এই ট্রেনে, তাহলে প্রতিপক্ষের বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

কিম জং উনের দাদু কিম ইল সুং ভিয়েতনাম এবং পূর্ব ইউরোপে ভ্রমণ করেছিলেন রেলপথে। তারপর থেকেই আন্তর্জাতিক সফরে দূরপাল্লার যাত্রায় ট্রেনে যাওয়ার রীতি চালু হয় উত্তর কোরিয়ায়। কিমের বাবা কিম জং ইল বিমানযাত্রায় ভয় পেতেন। ২০০১ সালে পিয়ংইয়ং থেকে মস্কো পর্যন্ত এবং একই পথে ফেরা মিলিয়ে ম্যারাথন ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা ট্রেনে ভ্রমণ করেছিলেন তিনি। এই যাত্রায় সময় লেগেছিল ২৪ দিন।

তবে সফরের আগে নিরাপত্তাকর্মীরা এই ট্রেনের প্রতিটি অংশ তন্নতন্ন করে তল্লাশি করেন। বোমা এবং অন্যান্য আক্রমণের আশঙ্কা থেকে বাঁচার জন্য যাত্রাপথ এবং স্টেশনগুলি স্ক্যান করেন তাঁরা।
কিম জং উন সেই পারিবারিক ঐতিহ্য অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সাঁজোয়া ট্রেন বিমানের চেয়েও বেশি নিরাপত্তা এবং বিলাসিতা প্রদান করে। তাই রাশিয়া সফরেও তাঁর ভরসা ‘মুভিং ফোরট্রেস’।
আরও পড়ুন: বাসমতীর বাজারে থাবা বসাতে আসছে ‘চুঁচুড়ামতী’, বাংলার নিজের ধান, কম দামে সরু চাল