দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উনের হাতে পিস্তল। ধোঁয়া বেরচ্ছে নল থেকে। এইমাত্র গুলি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। লাল কার্পেটের ওপরে উপুড় হয়ে পড়ে আছেন ট্রাম্প। তাঁর সামনে একটি ধাতব ব্যাগ। ব্যাগের মুখ খোলা। ভিতর থেকে উঁকি মারছে ডলার। একনায়কের পিছনে নিয়ন আলোর হরফে বড় বড় করে লেখা, দি শো মাস্ট গো অন। খেলা চলবেই।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওলে এক প্রদর্শনীতে এমনই দু’টি মূর্তি বানিয়েছেন এক শিল্পী। কয়েকমাস আগে ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের বৈঠক হয়। দুই নেতার দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসান ঘটে। সেই ঘটনাকে ব্যঙ্গ করেছেন শিল্পী। তাঁর নাম লিম ইয়ং সান।
উত্তর কোরিয়া দরিদ্র দেশ হলেও তার পরমাণু অস্ত্র আছে। অন্যদিকে আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা ছিল দীর্ঘকাল। কিম এবং ট্রাম্প উভয়েই পরস্পরকে হুমকি দিয়েছেন।
শেষপর্যন্ত দুই নেতা আলোচনায় বসতে রাজি হন। সিঙ্গাপুরে দু’পক্ষের বৈঠক হয়। শিল্পী লাম বলেছেন, কিম এবং ট্রাম্প বিশ্বের দুই শ্রেষ্ঠ শোম্যান। তাঁদের বৈঠক ছিল ‘বিগ পলিটিক্যাল শো’।
তিনি দেখিয়েছেন, একটা ফিল্মের সেটে কিম আর ট্রাম্প ঝগড়া করছেন। টাকা ধার নেওয়া নিয়ে দু’জনের বিরোধ। কিম ট্রাম্পের থেকে টাকা ধার চান। কিন্তু ট্রাম্প চড়া হারে সুদ চাইছেন। তাতে বেজায় চটেছেন কিম। শেষকালে তিনি গুলি করে মেরেই ফেললেন ট্রাম্পকে।
শিল্পী বলেছেন, দুই নেতাই গরম গরম কথা বলে বিশ্বে টেনশন তৈরি করেছেন। নিজেদের দেশে রাজনৈতিক ফয়দা তোলার জন্য তাঁরা ওই রকম বলেন। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানে কেউ আন্তরিক নন।
লিমের এই মূর্তিগুলি প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছে এক সপ্তাহ ধরে। বুধবার শেষ হয়েছে প্রদর্শনী। কিম পিস্তল চালিয়ে ট্রাম্পকে ‘খুন’ করছেন দেখে আঁতকে উঠেছেন অনেকে। লিম জানিয়েছেন, অনেক দর্শক আমাকে বলেছেন, আপনার মতো শিল্পীরা আমাদের দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক খারাপ করছেন। আপনি জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক। আবার অনেকে প্রশংসা করেছেন। সিওলের গৃহবধূ সোং মিন কিয়ং বলেছেন, লিমের শিল্পকর্ম দেখে বোঝা যায়, হাই প্রোফাইল নেতারা কীভাবে পরস্পরের প্রতি শত্রুতা পোষণ করেন। ট্রাম্পের মতো রাজনীতিক ক্ষমতায় আসবেন, চলেও যাবেন। কারণ তিনি এক গণতান্ত্রিক দেশের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু কিম ক্ষমতায় থাকবেন চিরকাল।
শিল্পী বলেছেন, আমি দেখাতে চেয়েছি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি অর্থ দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
তাঁর শিল্পকর্ম দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরে নানা দেশে দেখানো হবে।