দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন ধরে গুজব ছড়িয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা জানালেন, তিনি ৪৪ পাউন্ড ওজন কমিয়েছেন। তবে তিনি অসুস্থ নন। বৃহস্পতিবার জানা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদের সদস্য কিম বাইয়িং কি বলেছেন, সম্প্রতি কিমের ওজন কমেছে ১০ থেকে ২০ কেজি। গোয়েন্দারা সাংসদকে এই তথ্য দিয়েছেন।
সাংসদ বলেন, কিম যদি অসুস্থ হতেন, তাহলে যে ক্লিনিকে তাঁর চিকিৎসা হয়, সেখানে ওষুধ আনতে দেখা যেত। সেরকম কিছু দেখা যায়নি। কিছুদিন আগে কিম প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে এক ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তাঁর হাঁটাচলাতেও কোনও অস্বাভাবিকত্ব দেখা যায়নি।
৩৭ বছরের একনায়ককে গত মে মাসে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। জুন মাসে এক ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, তিনি সরকারি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। কিমের পরিবারে অনেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই গোয়েন্দারা একনায়কের স্বাস্থ্যের ওপরে সতর্ক নজর রাখেন। গত নভেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা জানিয়েছিলেন, কিমের ওজন ১৪০ কিলোগ্রাম।
দক্ষিণ কোরিয়ার আর এক সাংসদ হা তাই কেয়ুং বলেন, কিম করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়েছেন বলে প্রমাণ নেই। একইসঙ্গে তিনি জানান, তাঁদের দেশের অ্যাটমিক এনার্জি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ওয়েব সাইট পরপর ১২ দিন ধরে হ্যাক করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও গোপন তথ্য চুরি হয়নি। গত ৭ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ফিউসন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ওয়েব সাইটও হ্যাক করতে চেয়েছিল উত্তর কোরিয়া। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে।
কিমের নেতৃত্বে পরমাণু অস্ত্র বানানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। তারা এমন শক্তিশালী পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র বানাতে চায় যা সরাসরি আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে, দক্ষিণ কোরিয়ায় ও জাপানে আঘাত হানতে পারে। সেজন্য রাষ্ট্রপুঞ্জ থেকে উত্তর কোরিয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সাংসদ হা তাই কেয়ুং বলেন, ২০২১ সালের প্রথম পাঁচ মাসে উত্তর কোরিয়া ও চিনের মধ্যে বাণিজ্য কমেছে গত বছরের তুলনায় ৮১ শতাংশ। রাষ্ট্রপুঞ্জ নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি। তার ওপরে অতিমহামারীর জন্য চিন সীমান্তেও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। আগের মতো সহজে পণ্য চলাচল করতে পারছে না। ফিচ সলিউশনস গত এপ্রিলে জানিয়েছে, ২০২০ সালে ব্যাপক সংকুচিত হয়েছে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি।
গত মাসে কিম দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে বলেন, “খাদ্য পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হয়ে আসছে।” গত বছর টাইফুনে উত্তর কোরিয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তার ফলে দেখা দিতে পারে খাদ্যাভাব।