দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ায় কুচকাওয়াজ করল সেনাবাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শপথ নেওয়ার পরে এই প্রথমবার শক্তিপ্রদর্শন করল একনায়ক কিম জং উনের (Kim Jong Un) বাহিনী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হওয়া ছবিতে দেখা যায়, কুচকাওয়াজের মধ্যমণি কিম স্বয়ং। তিনি সম্প্রতি অন্তত ২০ কেজি ওজন কমিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বদলে ফেলেছেন চুলের ছাঁট। তাঁকে এখন তাঁর ঠাকুরদা তথা উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং-এর মতো দেখতে লাগছে।
এদিনের কুচকাওয়াজে কোনও নতুন অস্ত্র প্রদর্শন করেনি উত্তর কোরিয়া। কিন্তু সকলের নজর কেড়েছে একনায়কের 'স্লিম অ্যান্ড ট্রিম' চেহারা। তাঁর পরনে ছিল হালকা রং-এর স্যুট। তিনি কোনও কথা বলেননি। কিন্তু উপস্থিত জনতাকে লক্ষ করে হেসেছেন, জাত নেড়েছেন। পিয়ং ইয়ং-এর কিম ইল সুং স্কোয়ারে এদিন প্যারেড হয়। কিম দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর প্রাসাদের বারান্দায়।
একনায়ক একসময় খুব মোটা হয়ে গিয়েছিলেন। তার ওপরে তিনি ছিলেন ধূমপায়ী। অনেকেই কিমের স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখতেন। কারণ তাঁর পরিবারে অনেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গত জুলাই মাসেই দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা খবর দেন, কিম অন্তত ২০ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছেন।
ওইসময় দক্ষিণ কোরিয়ার আর সাংসদ হা তাই কেয়ুং বলেন, কিম করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়েছেন বলে প্রমাণ নেই। একইসঙ্গে তিনি জানান, তাঁদের দেশের অ্যাটমিক এনার্জি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ওয়েব সাইট পরপর ১২ দিন ধরে হ্যাক করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও গোপন তথ্য চুরি হয়নি। গত ৭ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ফিউসন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ওয়েব সাইটও হ্যাক করতে চেয়েছিল উত্তর কোরিয়া। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে।
কিমের নেতৃত্বে পরমাণু অস্ত্র বানানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। তারা এমন শক্তিশালী পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র বানাতে চায় যা সরাসরি আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে, দক্ষিণ কোরিয়ায় ও জাপানে আঘাত হানতে পারে। সেজন্য রাষ্ট্রপুঞ্জ থেকে উত্তর কোরিয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সাংসদ হা তাই কেয়ুং বলেন, ২০২১ সালের প্রথম পাঁচ মাসে উত্তর কোরিয়া ও চিনের মধ্যে বাণিজ্য কমেছে গত বছরের তুলনায় ৮১ শতাংশ। রাষ্ট্রপুঞ্জ নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি। তার ওপরে অতিমহামারীর জন্য চিন সীমান্তেও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। আগের মতো সহজে পণ্য চলাচল করতে পারছে না। ফিচ সলিউশনস গত এপ্রিলে জানিয়েছে, ২০২০ সালে ব্যাপক সংকুচিত হয়েছে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি।
কয়েক মাস আগে কিম দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে বলেন, “খাদ্য পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হয়ে আসছে।” গত বছর টাইফুনে উত্তর কোরিয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তার ফলে দেখা দিতে পারে খাদ্যাভাব।