
শেষ আপডেট: 1 January 2024 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: নতুন বছরে জঞ্জাল সাফাইয়ের কর বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল খড়্গপুর পুরসভা। সেই কর চালুর আগে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ালেন কাউন্সিলররা।
অনেকদিন ধরে খড়্গপুরের পুরএলাকায় জঞ্জাল পরিষ্কার করার জন্য কর বসানো নিয়ে আলোচনা চলছিল। কথা ছিল নতুন বছরের শুরুতে বসানো হবে এই কর। যদিও কর নিয়ে অনেকে বিরোধিতাও করছিলেন। সেই আগুনে ঘি ঢালল একটি লিস্ট। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল হয়েছে।
লিস্ট অনুযায়ী, কর বসানোর জন্য ৩০ ধরনের দোকানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। খড়্গপুর শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, লজ, পান-চায়ের গুমটি দোকান রয়েছে ওই লিস্টে। ওই সকল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নেওয়া হবে। পুরএলাকার বসতবাড়িগুলি থেকেও নেওয়া হবে জঞ্জাল সাফাই কর।
লিস্ট সামনে আসতেই চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব হয়েছেন দলের কাউন্সিলরদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, বোর্ড মিটিংয়ে কোনও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত না করেই কর আদায়ের কাজ শুরু করতে চলেছে পুরসভা। তাঁদের মতে, এই কর মানুষের উপর নতুন বোঝা ছাড়া আর কিছুই নয়। একই সঙ্গে জঞ্জাল সাফাই কর নিয়ে সরব হয়েছেন খড়্গপুর এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
জঞ্জাল সাফাই কর নিয়ে প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রদীপ সরকারের বক্তব্য, এই জঞ্জাল সাফাই কর কোনভাবেই চালু হতে দেব না। পুরসভার নয়া চেয়ারম্যানকে তিনি এর আগেও বিষয়েটি জানিয়েছেন। আগামীদিনেও জানাবেন।
কর নেওয়ার সিদ্ধান্তে বর্তমান চেয়ারম্যানের পাশে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলার দাঁড়িয়েছেন। পুরসভার পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষের দাবি, ''দলের লোকজনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর দলের লোকেদের মধ্যেই মতবিভেদ থাকে। বাড়িতে নিজের ভাইয়ের সঙ্গেই মিল থাকে না, দলের মধ্যে তো হবেই।''
এই বিতর্কের জেরেই আপাতত নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে খড়্গপুরে জঞ্জাল সাফাই কর চালু হয়নি বলে জানিয়েছেন পুরপ্রধান। এই করের বিরোধিতা করেছে বিজেপিও। সাংসদ দিলীপ ঘোষ কর বসানো নিয়ে নিন্দা করেছেন খড়্গপুর পুরবোর্ডকে। এই নিয়ে আগামী দিনে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।