
শেষ আপডেট: 6 May 2023 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘সন্ত্রাস বন্ধে সন্ত্রাসের দ্বারা আক্রান্তরা সন্ত্রাসীদের মদতদাতার সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে না।’
শুক্রবার গোয়া সফররত পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী বিলাবল ভুট্টোর (Bilabal Bhutto had to ashamed) উদ্দেশে এমনই নজিরবিহীন কড়া মন্তব্য করেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মুখ পুড়ল ভুট্টো ও পাকিস্তানের, সত্যি হল জয়শঙ্করের কথা। প্রমাণ হল ভারত থেকে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের নিজের দেশে আশ্রয় দেয় পাকিস্তান (Khalistan terrorist is murdered in Lahore)।
শনিবার সকালে লাহোরে নিজের বাড়ির সামনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয় স্বঘোষিত খলিস্তানি কমান্ডো চিফ পরমজিৎ পাঞ্জওয়ার ওরফে মালিক সর্দার সিং। লাহোরের জোহার টাউন এলাকায় সকাল ৬’টা নাগাদ বাড়ি লাগোয়া রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন তিনি। সঙ্গে দেহরক্ষী ছিল। আততায়ীরা মোটর সাইকেলে করে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে গা ঢাকা দেয়। আহত হন পরমজিতের দেহরক্ষী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হল পরমজিতের।
কে এই পরমজিৎ? পাকিস্তান বারে বারে এই খলিস্তানি নেতার সেদেশে থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এই নেতার বিরুদ্ধে মাদক ও কালো টাকা চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ ব্যবসার টাকা সে খলিস্তানি আন্দোলনের কাজে ব্যয় করত। ১৯৯০ থেকে টানা এই কাজ লাহোরে বসে চালিয়ে যাচ্ছিল সে।
পরমজিতের মূল বাড়ি পাঞ্জারের তরনতারনের পাঞ্জওয়ার গ্রামে। সে তরনতারনেই খলিস্তানি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। তাঁর খুড়তুতো ভাই লভ সিং ছিলেন আন্দোলনের মাথা এবং খলিস্তান কমান্ডো ফোর্সের চিফ। সেও পাকিস্তানে বসেই অপারেশন চালাত। ১৯৮৬-তে লভ সিং মারা যাওয়ার পর পরমজিৎ সীমান্ত পেরিয়ে লাহোরে থাকা শুরু করে। তার স্ত্রী ও সন্তানেরা থাকে জার্মানিতে।
ভারত সরকার একাধিকবার পাকিস্তানে পরমজিতের ঠিকানা কাজকারবার নিয়ে সে দেশের সরকারকে তথ্যপ্রমাণ দিলেও ইসলামাবাদ তাতে কর্ণপাত করেনি। পাকিস্তান মানতেই চায়নি পরমজিৎ তাদের দেশে আছে।
গোয়ায় গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশের বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন পাকিস্তানের নবীন বিদেশমন্ত্রী বিলাবল ভুট্টো। সম্মেলনে তিনি জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এসসিও-র অন্তর্ভুক্ত সব দেশকে এক সঙ্গে জঙ্গি নাশকতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
বিলাবল সম্মেলনের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও ভারত তাঁকে বিশেষ পাত্তা দেয়নি এই সফরে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠক তো দূরের কথা, বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর পাক বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দন পর্যন্ত করেননি। দু’জনে নমস্কার বিনিয়ম করেছেন মাত্র। তবে বিলাবল গোয়া ছাড়ার মুখে তাঁর উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন জয়শঙ্কর। বলেন, ‘জঙ্গিদের মদত দেয় যারা তাদের সঙ্গে ভারতের মতো জঙ্গিদের দ্বারা আক্রান্ত দেশের পক্ষে জঙ্গিবাদের মোকাবিলা নিয়ে আলোচনায় বসা কঠিন।’
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে দাউদ ইব্রাহিম-সহ কোনও ভারতীয় জঙ্গিকে তারা আশ্রয় দেয়নি। বিলাবলও গোয়ার ভাষণে জঙ্গিবাদের মোকাবিলায় লম্বা-চওড়া কথা বলেছিলেন। অথচ দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মুখ পুড়ল তাঁর এবং পাকিস্তানের পরমজিতের হত্যাকাণ্ডে। খলিস্তানি কমান্ডা মরে গিয়ে প্রমাণ দিয়ে গেল পাকিস্তানের আশ্রয়ে ছিল সে।
বিলাবল রাইফেল শ্যুটার, ব্ল্যাকবেল্ট, দাদুর মতই মোল্লাতন্ত্রকে খুশি রাখার মন্ত্র জানেন!