দ্য ওয়াল ব্যুরো: খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বার করে আনতে জিয়া পরিবার কি শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে গোপন বোঝাপড়া চালাচ্ছে?
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তো বটেই, খালেদার দল বিএনপি-র নেতা-কর্মীদের ঘরোয়া আলোচনার প্রধান বিষয় এখন এটাই। বিএনপি-র এক প্রবীণ নেতার কথায়, খালেদার আত্মীয়-স্বজনরা যে ভাবে দলের নেতৃত্বকে এড়িয়ে খেয়ালখুশি মতো চলছেন, তাতে এই সন্দেহ আরও দৃঢ় হচ্ছে।
মে মাসের ৮ তারিখে খালেদা জিয়ার কারাবাসের তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাবন্দি হওয়া নেত্রীর মুক্তির দাবিতে এই তিন মাসে বিএনপি আন্দোলন গড়ে তোলা তো দূরের কথা, কোনও কর্মসূচিই নিতে পারেনি। একটি জনসভার কথা ঘোষণা করেও লোক হবে না আশঙ্কা করে সেই কর্মসূচি খারিজ করে দেন নেতৃত্ব। এ ছাড়া যা হয়েছে শুধুই তর্জন-গর্জন আর আস্ফালন।
এই পরিস্থিতিতে খালেদাকে মুক্ত করতে পরিবার আর দলের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না— এমন ইঙ্গিত দিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে তুলেছেন খালেদা জিয়ার এক আইনজীবীই।
প্রথম মাস খানেক জেলে খালেদার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন দলের নেতারাই। কিন্তু পরে লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে সংসারের পাশাপাশি মামলার দায়িত্বও তুলে নেন খালেদার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান। আর তার পর থেকেই দল ও জিয়া পরিবারের দূরত্ব চড়চড় করে বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ।
বিএনপি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, দলের সিনিয়র নেতাদের অনেককেই বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেন না শর্মিলা। তাঁরা বাড়িতে গেলেও দেখা করেন না। নিজের মতো করে জেলে গিয়ে খালেদার সঙ্গে দেখা করে আসেন শর্মিলা। সঙ্গে পরিবারের অন্যদেরও নিয়ে যান। কিন্তু নেত্রী কেমন আছেন— সে খবরটুকুও দলকে জানান না।
তার পর এখন সরকারের নানা নেতামন্ত্রীর সঙ্গে কোকো জিয়ার স্ত্রীর বেশ দহরম মহরম দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ দলের কর্মীদের। দলের নেতারা নেত্রীর সঙ্গে জেলে দেখা করতে গেলে কারা কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেন না। কখনও কখনও বলা হয়েছে, অসুস্থ খালেদা দেখা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। কিন্তু শর্মিলা ও পরিবারের লোকেরা দিব্যি কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে খালেদার সঙ্গে দেখা করে আসছেন।
তার পরেই উঠেছে প্রশ্ন— জিয়া পরিবার কি সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া করে চলছে? সেই জন্যই কি তারেক দলের রাশ টেনে রেখেছেন, বিএনপি যাতে এই মুহূর্তে সরকারের বিরুদ্ধে কোনও আন্দোলনে না-যায়?
সব মিলিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বিএনপি-র অন্দরে।