
শেষ আপডেট: 13 July 2023 11:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৩ বছর আগের ঘটনা। কলেজে প্রশ্নপত্র নিয়ে গোলমাল হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরেই কবজি থেকে তাঁর হাতের তালু ধারালো অস্ত্রের এক কোপে কেটে নিয়েছিল (Kerala professor palm chopped) বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার (PFI) আন্দোলনকারীরা। ২০১০ সালের সেই ঘটনার পর চাকরি খুইয়েছিলেন কেরলের বাসিন্দা প্রফেসর টিজে জোসেফ (TJ Joseph)। ভয়াবহ সেই ঘটনার ১৩ বছর বছর পর গত বুধবার একটি বিশেষ এনআইএ আদালত মামলায় ছ'জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। মুক্তি দেওয়া হয়েছে পাঁচজনকে। সেই খবর জানার পর অধ্যাপক জোসেফ জানালেন, যাঁরা একদিন তাঁর এত বড় ক্ষতি করেছিল, তাদের প্রতি মনে কোনও ক্ষোভ কিংবা অসূয়া নেই তাঁর।
গঠনের সূত্রপাত ২০১০ সালে। জোসেফ তখন ইদুক্কি জেলার থোডুপুঝার নিউম্যান কলেজের বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি কলেজের বিকম সেমিস্টার পরীক্ষায় এমন একটি প্রশ্ন করেছিলেন, যা নিয়ে খেপে উঠেছিল পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া তথা পিএফআই সমর্থকরা। সেই বছরেরই ৪ জুলাই সপরিবারে এর্নাকুলামের একটি গির্জা থেকে ফিরছিলেন জোসেফ। দিনটা ছিল রবিবার। তাই সেদিন প্রার্থনায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার সময় তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায় সাত জন পিএফআই সমর্থকের একটি দল। অধ্যাপককে টেনে হিঁচড়ে গাড়ি থেকে বের করে আনে তারা। এরপর তাঁকে মারধর করে তাঁর ডান হাতটি ধারালো অস্ত্রের এক কোপে কেটে ফেলে কবজি থেকে।
সেই হামলার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত সাভাদ পালিয়ে গিয়েছিল। হাজার চেষ্টা করেও তার সন্ধান মেলেনি। এখনও পর্যন্ত আইনের আওতায় আনা যায়নি তাকে।
জুলাই মাসের সেই ঘটনার পর সেপ্টেম্বরে চাকরি হারিয়েছিলেন জোসেফ। শুধু তাই নয়, চার বছর পর আত্মহত্যা করেন তাঁর স্ত্রী। তারপরেও জোসেফ মনে করেন, হাত কেটে ফেলার সেই ঘটনা তাঁর জীবন ধ্বংস করে দিতে পারেনি। যদিও ছোটখাট বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে, অনেক কিছু হারিয়েছেন তিনি, সেকথা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও আক্রমণকারীদের প্রতি ক্ষোভ তো নয়ই, বরং সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন জোসেফ। তাঁর কাছে, ওরা শুধুই ' অন্যের হাতিয়ার' এবং 'নিজেদের বিশ্বাসের দাস।'
পিএফআই সমর্থকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ইউএপিএ এবং ইএসএ আইনে মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। তবে বুধবারের রায়ে আদালত ৬ জনকে দোষী বলে ঘোষণা করেছে। আদালতের এই রায় জানার পরেও একই রকম ভাবলেশহীন অধ্যাপক জোসেফ। তাঁর দাবি, অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া মানে কখনওই নির্যাতিতর প্রতি ন্যায়বিচার করা নয়। 'দোষীকে শাস্তি দেওয়ার অর্থ আমার কাছে শুধুই আইনের প্রয়োগ করা। তাই কে শাস্তি পেল, আর কে ছাড়া পেল, তাতে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু যায় আসে না,' জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর আরও দাবি, সেদিনের ঘটনায় যারা তাঁর উপর হামলা চালিয়েছিল, তারা বোড়ে মাত্র, অন্যের হাতিয়ার তারা। তাঁরই মতো তারাও আসলে 'ভিকটিম'। আসল অপরাধী, যারা এই হামলার ছক কষেছিল, তারা আইনের নাগালের বাইরেই রয়েছে। তাঁর আসল লড়াই তাদের বিরুদ্ধে, জানিয়েছেন জোসেফ। তাদের বিশ্বাসের বদল আনা না গেলে এই ধরনের ঘটনা আরও ঘটবে বলে মনে করেন তিনি।
মূল অভিযুক্ত তো ধরা পড়েনি, তিনি কি তা নিয়ে ভয় পাচ্ছেন? জোসেফের জবাব, 'আমি ভয় পাচ্ছি না। আমি আমার নিজের শর্তে বাঁচি, ভবিষ্যতেও তাই করব। যদি আসল অপরাধী ধরা না পড়ে, তাহলে সেটা শাসনযন্ত্রের ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করে।'
ভাঙড়ে ফের বিস্ফোরণ! বোমা ফেটে ঝলসে গেলেন ১০ জন আইএসএফ কর্মী