দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমানে চাপার পর থেকে বিমানসেবিকাদের কোনও কথাই কানে তুলতে চাইছিলেন না যাত্রী। শেষে উড়ানে সিগারেট খাওয়ার আর্জি জানাতেই বিপত্তি বাধে। বিমান সেবিকা মানা করার পরেও সিগারেট ধরাতে উদ্যোগী হন তিনি। নিষেধ একটু কড়া হতেই অত্যন্ত কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করে বিমান সেবিকাকে হেনস্থা করা শুরু করেন। মুখে অশ্লীল কথার তুবড়ি। সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে এই ঘটনা ঘটে শনিবার দুপুরে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই যাত্রীর নাম শাহিদ সামসুদ্দিন। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরই শাহিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ ও সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)।
কোট্টায়ামের বাসিন্দা শাহিদ সৌদি এয়ারলাইন্সের ওই বিমানে চেপে দিল্লি যাচ্ছিলেন। অন্যান্য বিমান যাত্রীদের কথায়, শাহিদ শুরু থেকেই নানা কারণে বাকিদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মাঝ আকাশে আচমকাই সিগারেট ধরাবার বায়না জুড়ে দেন তিনি। বিমান ধূমপান যে নিষিদ্ধ সেই কথাটা তাঁকে একজন বিমান সেবিকা বলতে যেতেই, তিনি তেড়েফুঁড়ে ওঠেন। প্রথমে নানা অশ্লীল কথা, পরে প্যান্টের চেন খুলে সকলের সামনে অসভ্যতা করা শুরু করেন। বিমান সেবিকাকে হেনস্থাও করেন।
দিল্লিতে অবতরণের আগেই বিমানবন্দরের কন্ট্রোল সেন্টারে শাহিদের নামে অভিযোগ দায়ের করেন বিমানের ক্রু মেম্বাররা। সতর্ক করা হয় সিআইএসএফ-কেও। বিমান ল্যান্ড করার সঙ্গে সঙ্গে শাহিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ডেপুটি কমিশনার (দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) সঞ্জয় ভাটিয়া জানিয়েছেন, শাহিদ পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান। কাজের সূত্রেই সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪, ৫০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা এবং ধরপাকড় সত্ত্বেও বিমানে বিধিনিষেধ মানতে চান না অনেক যাত্রীই। এমনকি মাঝ আকাশে বিধি ভাঙতে দেখা গেছে অনেক পাইলটকেও। কখনও বিমানের শৌচাগারে বসে ধূমপান করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন যাত্রী, আবার কখনও ককপিটে সিগারেট ধরিয়ে যাত্রী-সহ বিমানকে দুর্ঘটনার মুখে ঠেলে দিয়েছেন পাইলট। এমন উদাহরণ ভূরি ভূরি। বিমান সেবিকা ও ক্রু মেম্বারদের সঙ্গে অসভ্যতা করার নজিরও কিছু কম নয়। সৌদি এয়ারলাইন্সের এই ঘটনা ফের সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।