দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আদৌ কার্যকরি কিনা সে নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা মাথায় রেখেই এই ওষুধ ব্যবহারে এখনও সবুজ সঙ্কেত দেয়নি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। কিন্তু কেরলের একটি হাসপাতালে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়ে গেছে বলে খবর।
কেরলের অ্যাসটার মালাবার ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সে ট্রায়াল চলছে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের। এই হাসপাতালের ডাক্তার রমেশ ভাসি বলেছেন, আইসিএমআরে রেজিস্টার করিয়েই এই ওষুধের প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ৫০০ জনকে।
ডাক্তার ভাসি বলেছেন, এই ওষুধের ট্রায়ালের শুধুমাত্র হাসপাতাল কর্মী, স্বাস্থ্যকর্মীদেরই বেছে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি কোনও রোগী বা বাইরের লোকজনকে এই ওষুধ দেওয়া হবে না। ট্রায়াল যাদের উপর করা হবে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া হবে। ওষুধ খাওয়ানোর পরে দু’সপ্তাহ তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই ট্রায়ালে কী রেজাল্ট পাওয়া গেল সেটা সবিস্তারে পাঠানো হবে আইসিএমআরকে।
হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ট্রায়ালের জন্য হাসপাতাল কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তার ভাসি। একটি দলকে ৪০০ মিলিগ্রাম ডোজে সপ্তাহে একদিন দু’বার করে ওষুধ খাওয়ানো হবে। এইভাবে সাত সপ্তাহ একই ডোজে ওষুধ দেওয়া হবে। অন্য দলকে, ৩০০ মিলিগ্রাম ডোজে ওষুধ খাওয়ানো হবে টানা সাতদিন। তারপর সপ্তাহে একদিন ৩০০ মিলিগ্রাম ডোজে সাত সপ্তাহ ধরে ওষুধ খাওয়ানো হবে। দুটি দলকেই আইসিএমআরের নির্দেশিকা মেনেই ওষুধ খাওয়ানো হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিচ্ছন্নতা, সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং ও অন্যান্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলবেন।
আইসিএমআরের এপিডেমোলজি ও কমিউনিকেবল ডিজিজের প্রধান রমন আর গঙ্গাখেদকার আগেই বলেছিলেন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চিন্তার বিষয়। ৪৮০ জনকে এই ওষুধ খাইয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীকেও এই ওষুধ খাওয়ানো হয়। তবে তাঁদের কয়েকজনের মধ্যে এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষত উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, শ্বাসজনিত রোগ আগে থেকেই ছিল যেসব স্বাস্থ্যকর্মীর, অথচ ইসিজি বা অন্য স্বাস্থ্যপরীক্ষা না করিয়েই ওষুধ খেয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যেই পেট ব্যথা, বমিভাব ও নানারকম শারীরিক অস্বস্তি দেখা গেছে।
ক্লোরোকুইন ফসফেট ম্যালেরিয়া সারানোর ওষুধ। ক্লোরোকুইনের হাইড্রক্সিলেটেড সল্টকে বলে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। ম্যালেরিয়া ছাড়াও এটি অন্য কানেক্টিভ টিস্যু ডিসঅর্ডার যেমন লুপাস, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, জোগ্রেন সিন্ড্রোম ইত্যাদি রোগে এর ব্যবহার হয়। আইসিএমআর জানিয়েছিল, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এর প্রয়োগ করা যেতে পারে। যে স্বাস্থ্যকর্মীরা ২৪ ঘণ্টা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করছেন তাদের উপরে প্রয়োগ করা যেতে পারে এই ড্রাগ। উপসর্গ ধরা পড়েনি (Asymptomatic) কোয়ারেন্টাইনে থাকা এমন রোগী যাদের শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ, তাঁদের সংস্পর্শে থাকছেন বা চিকিৎসা করছেন এমন ব্যক্তিদের উপরেও প্রয়োগ করা যাবে এই ড্রাগ। তবে এর কিছু বিধিনিষেধও আছে। কার উপর হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন প্রয়োগ করতে হবে এবং ঠিক কতটা ডোজে, সেটা শুধুমাত্র অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই করা যাবে। আর যাদের ক্রনিক রোগ রয়েছে যেমন হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, সুগার ইত্যাদি, তাদের ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে হবে।