ইতিহাস কংগ্রেসের মঞ্চে বিক্ষোভের মুখে কেরলের রাজ্যপাল, তীব্র প্রতিবাদ ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিবের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘শেম, শেম, গো ব্যাক!’ বিক্ষোভের মুখে এবার কেরলের রাজ্যপাল।
কেরলের কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস কংগ্রেসের মঞ্চে (আইএইচসি)সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এনআরসি) নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রবল প্রতিবাদের ম
শেষ আপডেট: 27 December 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘শেম, শেম, গো ব্যাক!’ বিক্ষোভের মুখে এবার কেরলের রাজ্যপাল।
কেরলের কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস কংগ্রেসের মঞ্চে (আইএইচসি)সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এনআরসি) নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রবল প্রতিবাদের মুখে পড়তে হল রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানকে। বিক্ষোভ এতটাই চরম সীমায় পৌঁছয়, যে মাঝপথেই বক্তৃতা থামিয়ে দিতে বাধ্য হন রাজ্যপাল। এমনকি রাজ্যপালের বক্তব্যের বিরোধিতা করতে দেখা যায় ইতিহাসবিদ আইএইচসি-র প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইরফান হাবিবকেও।
শনিবার কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০তম ইতিহাস কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল টেনে আনেন সিএএ ও এনআরসি-র প্রসঙ্গ। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরেই বিতর্ক দানা বাঁধে। সিএএ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান টেনে আনেন দেশভাগের প্রসঙ্গও। বিক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি হয় তখনই। তাঁর বক্তব্যকে ‘উত্তেজক’,’উস্কানিমূলক’বলে দাবি করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। সেই মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব। দেশভাগের প্রসঙ্গে রাজ্যপালের বক্তব্যের মাঝে উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় তাঁকেও।
https://twitter.com/KeralaGovernor/status/1210897890488381442?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1210897890488381442&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.news18.com%2Fnews%2Fpolitics%2Fkerala-guv-faces-protests-from-delegates-at-indian-history-congress-over-caa-2438511.html
বক্তৃতার মাঝে বাধা পেয়ে মেজাজ চড়তে দেখা যায় রাজ্যপালেরও। মঞ্চ থেকেই বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে রাজ্যপালকে বলতে শোনা যায়, “একজন রাজ্যপাল হিসেবে সিএএ নিয়ে আমি আমার বক্তব্য রেখেছি। আপনাদের প্রতিবাদ করার পূর্ণ অধিকার আছে, কিন্তু আমাকে বাধা দিয়ে থামিয়ে দিতে পারেন না।” সেই সঙ্গেই তিনি বলেন, “আলোচনা এবং তর্কের সব রাস্তাই যখন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, তখন এটা পরোক্ষে হিংসাকেই প্রশ্রয় দিচ্ছে।”
ইরফান হাবিবের যুক্তিরও তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্যপাল বলেন, “রাজ্যপাল হিসেবে সংবিধানকে রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। কিন্তু হাবিব আমার বক্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।” নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে এদিনের ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন তিনি। রাজ্যপালের দাবি, ইতিহাস কংগ্রেসের মঞ্চে বিক্ষোভের মনোভাব নিয়েই হাজির ছিলেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, জওহরলাল নেহেরু ও আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। তাঁরাই আলোচনার মঞ্চ ভন্ডুল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
https://twitter.com/KeralaGovernor/status/1210900151482511361?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1210900151482511361&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.news18.com%2Fnews%2Fpolitics%2Fkerala-guv-faces-protests-from-delegates-at-indian-history-congress-over-caa-2438511.html
যদিও রাজ্যপালের এই দাবি উড়িয়ে আইএইচসি-র সম্পাদক বলেছেন, “কয়েকজন অতিথি প্ল্যাকার্ড তুলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।”
এদিন ইতিহাস কংগ্রেসের মঞ্চে হাজির ছিলেন আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শীরিন মুসভি। তিনি বলেন, “রাজ্যপাল এমন কথা বলছিলেন যার কোনও ভিত্তি নেই। ইতিহাসবিদ হাবিব শুধু উঠে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, মৌলানা আজাদ, মহাত্মা গান্ধী ও নাথুরাম গডসেকে এসবের মধ্যে টেনে আনার কোনও মানেই হয় না। এটা শুনেই রাজ্যপাল খেপে যান। ”
ইতিহাস কংগ্রেসের মঞ্চে উত্তেজনা চরমে পৌঁছলে পরিস্থিতি সামাল দিতে পৌঁছয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন মহিলাকে ‘শেম, শেম’ বলতেও শোনা যায়। ঘটনায় কয়েকজন বিক্ষোভকারী পড়ুয়াকে আটক করেছে পুলিশ।