করোনা সারাতে প্লাজমা-থেরাপি এবার কেরলেও, ডাক্তার ও বিজ্ঞানীদের নিয়ে তৈরি হল টাস্ক ফোর্স
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইরাসের সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির রক্তরস বা প্লাজমাতেই রোখা যাবে মারণ ভাইরাসকে, এমন দাবি করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরাই। কোভিড-১৯ সারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন যে ব্যক্তি তার প্লাজমাকে বলে ‘Convalescent Plasma’। এই প্লাজ
শেষ আপডেট: 8 April 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইরাসের সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির রক্তরস বা প্লাজমাতেই রোখা যাবে মারণ ভাইরাসকে, এমন দাবি করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরাই। কোভিড-১৯ সারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন যে ব্যক্তি তার প্লাজমাকে বলে ‘Convalescent Plasma’। এই প্লাজমা আক্রান্তের শরীরে প্রয়োগ করে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ানোর যে পদ্ধতি, তাকেই বলে প্লাজমা-থেরাপি বা Convalescent Plasma Therapy। আমেরিকায় করোনা আক্রান্তদের উপরে এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করার অনুমতি দিয়েছে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)। এবার এই থেরাপির জন্য সম্মতি দিল কেরল সরকারও।
সূত্রের খবর, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের অনুমোদনেই এই প্লাজমা-থেরাপি প্রয়োগ করার কথা ভেবেছেন কেরলের ডাক্তার, বিজ্ঞানীরা। সরকারি উদ্যোগে তৈরি হয়েছে বিশেষ টাস্ক ফোর্স। কেরলের ডাক্তাররা বলছেন, প্লাজমা-থেরাপির প্রয়োগ কীভাবে হতে পারে তার একটা প্রোটোকল তৈরি হয়েছে। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা দাতার খোঁজও চলছে। তবে এই থেরাপি প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেক নিয়মও আছে। দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ, রক্তের আরও কয়েকটি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও তাঁকে ৭-১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। সংক্রমণ সম্পূর্ণ সেরে গেছে নিশ্চিত হলেই তাঁর প্লাজমা নেওয়া হয় থেরাপির জন্য।
করোনা সংক্রামিতের উপর ‘Convalescent Plasma Therapy’ প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত অনেকদিন আগেই নিয়েছে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) । সুস্থ ব্যক্তির রক্তরস দিয়ে আক্রান্তের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিনে। করোনাভাইরাসের প্রাণঘাতী ভাইরাল স্ট্রেন সার্স-কভ-২ কে জব্দ করার মতো কোনও ভ্যাকসিন বা ড্রাগ এখনও বাজারে আসেনি। তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই প্লাজমা-থেরাপিকেই হাতিয়ার করতে চাইছে বিশ্বের অনেক দেশই। এই পথে প্রথম আলো দেখিয়েছেন উনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের চিফ কোয়ালিটি অফিসার ফাহিম ইউনুস। তিনি দাবি করেছেন, প্লাজমা-থেরাপিতে ইতিমধ্যেই পাঁচজন সঙ্কটজনক রোগীকে সারিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছ।
এই প্লাজমা-থেরাপি কী?
সংক্রামক রোগ সারাতে এই চিকিৎসা পদ্ধতি নতুন নয়। ১৯১৮ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা ফ্লু বা স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীর সময়েও এই প্লাজমা-থেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরে সংক্রামক জীবাণু ঢুকলে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এই রক্তরস বা প্লাজমা। কোভিড-১৯ সংক্রমণ সারিয় সুস্থ হয়ে উঠেছেন যে ব্যক্তি তাঁর রক্তরস ভাইরাস-প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। অর্থাৎ সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনকে আটকাতে যে ধরনের অ্যান্টিবডি দরকার সেটা তৈরি হয়েছে রক্তরসে। কাজেই সেই সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির রক্তরস যদি প্রয়োগ করা যায় (Blood Plasma Transfution) আক্রান্তের শরীরে, তাহলে সেই অ্যান্টিবডিকে হাতিয়ার করেই রোগীর দেহকোষ লড়াই চালিয়ে যাবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞানীদের আরও দাবি, দাতার রক্তরসে যদি শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তাহলে আক্রান্তের সংক্রমণ ৩-৭ দিনে সারতে পারে। একজন দাতার প্লাজমা থেকে কম করে দু’জন রোগীর চিকিৎসা হতে পারে।
জন হপকিনস ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের মলিকিউলার বাযোলজির প্রধান আরতুরো ক্যাসাডাভেল বলেছেন, প্লাজমা থেরাপিতে সংক্রমণ সারানোর উপায় আছে। সেরে ওঠা ব্যক্তিরা যদি প্লাজমা দান করতে এগিয়ে আসেন, তাহলে বাঁচানো যাবে বহু মানুষকে। নিউ উয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতাল, ইউনিভার্সিটির অব গ্লাসগোতে প্লাজমা-থেরাপির ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে।