
শেষ আপডেট: 23 March 2023 07:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তানের প্রতি বাবা মায়ের ভালবাসা অকৃত্রিম। কোনও দাড়িপাল্লায় তা মাপা অসম্ভব। আর চোখের সামনে সেই সন্তানের মৃত্যু দেখার চেয়ে বড় শোক এ পৃথিবীতে নেই। কিন্তু সন্তানের মৃত্যুর পরও, তাঁর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখলেন কেরলের (Kerala) এক দম্পতি।
সদ্য সন্তানহারা হয়েছে কেরলের এক দম্পতি। ছেলের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে ত্রিশূরের সেন্ট জোসেফ গির্জায় ছেলের সমাধির (Tomb) পাথরের গায়ে বসালেন কিউআর কোড (QR Code)।
কিন্তু কেন!
দম্পতি জানাচ্ছেন, তাঁদের ছেলে চিকিৎসক ছিলেন। ছেলে তাঁর জীবনকালে কী কী করে গিয়েছেন, তা সকলকে জানানোর জন্যই এমন অভিনব উদ্যোগ নিলেন তাঁরা।
কেবল ২৫ টা বসন্ত দেখেছিলেন আইভিন ফ্রান্সিস। ২০২১ সালে ব্যাডমিন্টন খেলতে খেলতেই মৃত্যু হয় তাঁর। শুধু পড়াশোনায় নয়, সঙ্গীতের প্রতিও ছিল প্রবল টান। কিবোর্ড ও গিটারবাদক হিসাবেও তাঁর যথেষ্ট নামডাক ছিল। খেলাধুলোর জগতেও সুনাম ছিল তাঁর।
আইভিনের বাবা জানান, 'আমরা চেয়েছিলাম আমার ছেলের জীবন সবার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক, আর এই ভাবনা থেকেই ওর সমাধিতে কিউআর কোড বসানোর সিদ্ধান্ত নিই।'
পুরনো যুগের মানুষ, নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে তেমন অবগত ছিলেন না। তবে এই ছেলের কারণেই জানতে পারেন আসলে কিউ আর কোড কী? ছেলেই শিখিয়েছিলেন, কীভাবে কিউ আর কোড স্ক্যান করে কোনও বিষয় সম্পর্কে জানা যায়। আইভিনের বাবা জানান, 'কোনও বিষয় কোনও তথ্য জানতে হলে আমার ছেলে অনেক কিউআর কোড পাঠাত আমায়। আর আমি সেগুলি স্ক্যান করেই সব জানতে পেরে যেতাম। ছেলের সেই সব স্মৃতি থেকেই সমাধিতে কিউআর কোড বসানোর ভাবনা আসে মাথায়।'
আইভিনের দিদি জানান, সমাধিতে কয়েকটি লাইন লিখে ভাইয়ের সারাজীবনের কাজ বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তাই এই কিউআর কোডের ব্যবহার। তাঁর সব কাজের বর্ণনা দিয়ে একটি ওয়েব পেজ তৈরি করেন তিনি। তারপর একটি কিউআর কোডের সঙ্গে সেই পেজটি লিঙ্ক করিয়ে আইভিনের সমাধিস্থলে বসানো হয়। এই কাজ মোট ১০ দিনে করেছেন আইভিনের দিদি।