দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য দেশ জুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে কেরল সরকার। সোমবার এই সমালোচনা উড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Kerala CM)। তাঁর বক্তব্য, এই সমালোচনা ‘অবাঞ্ছিত’। বিজয়নের সন্দেহ, অতিমহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষ যাতে কেরল সরকারকে সমর্থন না করে, সেজন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রচার চালানো হচ্ছে।
কেরল সিপিএমের মুখপত্র ‘চিন্তা’-য় প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বিজয়ন লিখেছেন, সমাজের একটি অংশ চেষ্টা করছে যাতে কোভিডের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের লড়াই (Covid Management) নিয়ে মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তারা চায়, সরকারের প্রতি মানুষের অনাস্থা সৃষ্টি হোক।
কেরলে বর্তমানে দৈনিক ৩০ হাজারের বেশি মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন। রাজ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এবং বিজেপি প্রশ্ন তুলেছিল, কোভিড সংকট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চুপ কেন? মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, কেরলের কোভিড নিয়ন্ত্রণ মডেল যদি ভুল হয়, তাহলে অপর কোন মডেল অনুসরণ করা হবে?
বিজয়ন বলেন, “কেরলে একজনও অক্সিজেনের অভাবে মারা যাননি। স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হননি কেউ।” তাঁর দাবি, কেরলে ভ্যাকসিনের একটি ডোজও নষ্ট হয়নি। রাজ্যে কোভিডে মৃত্যুহার মাত্র ০.৫ শতাংশ। দেশে মোট যত মানুষ কোভিডে মারা গিয়েছেন, তাঁদের এক তৃতীয়াংশ মাত্র কেরলের বাসিন্দা ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যাঁরা সরকারের সমালোচনা করছেন, তাঁরা জানেন, দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় এই রাজ্যে কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভ শুরু হয়েছিল পরে। তাছাড়া একমাত্র ভ্যাকসিনেশনের মাধ্যমে অতিমহামারী থামানো যেতে পারে। টিকাকরণের দায়িত্ব কেন্দ্রের। রাজ্যের নয়।”
বিজয়ন জানান, তাঁর সরকার অবাঞ্ছিত সমালোচনায় কান দেবে না। কোভিডের তৃতীয় ওয়েভ ঠেকানোর জন্য সবরকম প্রস্তুতি নেবে।
করোনা রোধে এক সময় কেরলই পথ দেখিয়েছিল। করোনার প্রথম ঢেউ সামাল দিয়ে গোটা দেশের সামনে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছিল ‘কেরল মডেল’। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, মহারাষ্ট্রের মতোই সংক্রমণ বেড়ে চলেছে কেরলেও। কিছুদিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক রিপোর্ট দিয়ে বলেছিল, কেরলে সংক্রমণের হার ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্য সরকারের প্রকাশিত হিসেব অনুযায়ী, একদিনে কেরলে ৩১ হাজার ৪৪৫ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন, মৃত্যু হয়েছিল ২১৫ জনের। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় যা ছিল অনেকটাই বেশি।
২৫ অগস্টের পরিসংখ্যান বলছে, গোটা দেশে মোট সংক্রমণের ৬৮% কেরল থেকে। ওই দিন সারা দেশে সংক্রমণের হার ছিল দুই শতাংশ। একমাত্র কেরলে সংক্রমণের হার তথা পজিটিভিটি রেট ছিল ১৯.৩ শতাংশ। কোভিড টেস্ট পজিটিভিটি রেট বেড়ে যাওয়া মানে হল, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাওয়া। কেরলে এখন সেটাই হচ্ছে।