দ্য ওয়াল ব্যুরো : যে সব রাজ্যে বিজেপি বিরোধীরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করবেন না। এমনকি বিজেপির শরিক হওয়া সত্ত্বেও ইউনাইটেড জনতা দলের নেতা নীতীশ কুমার বিহারে ওই আইন নিয়ে বিতর্ক চেয়েছেন। কিন্তু ওই আইন নিয়ে প্রথম রাজ্য হিসাবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করল বামশাসিত কেরল। ইতিমধ্যে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে ৬০ টি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হল কেরল সরকারের আবেদন।
কেরল সরকার তার পিটিশনে জানিয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সংবিধানের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করেছে। তাতে সাম্যের অধিকার মানা হয়নি। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
পিটিশনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব আইন সংবিধানের ১৪, ২১ ও ২৫ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছে। ১৪ নম্বর ধারায় সব নাগরিককে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। ২১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, 'আইনসঙ্গত পথে ছাড়া কোনও নাগরিককে জীবনের অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।' ২৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, 'প্রত্যেক ব্যক্তি তাঁর বিবেক অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন।'
১১ ডিসেম্বর সংসদে নাগরিকত্ব আইন পাশ হয়। তার পরেই দেশ জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে নিপীড়িত হয়ে যাঁরা ভারতে পালিয়ে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এর পরে দেশ জুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। অনেক জায়গায় আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নেয়। উত্তরপ্রদেশে গুলিতে অন্তত ২০ জন মারা যান। পুলিশ অবশ্য বলেছে, মাত্র এক জায়গায় গুলি চালানো হয়েছিল।