শবরীমালা নিয়ে কোর্টের রায়ের পক্ষে থাকায় কেরলের আশ্রমে আগুন, নিন্দায় মুখ্যমন্ত্রী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শবরীমালা মন্দিরে অবাধ মহিলা প্রবেশের সুপ্রিম রায়কে সমর্থন করেছিল কেরলের স্বামী সন্দীপানন্দের আশ্রম। শুক্রবার গভীর রাতে সেই আশ্রমেরই এক অংশে অাগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হল।
তিরুবনন্তপুরমের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় স্বামী সন্দীপানন্দে
শেষ আপডেট: 26 October 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শবরীমালা মন্দিরে অবাধ মহিলা প্রবেশের সুপ্রিম রায়কে সমর্থন করেছিল কেরলের স্বামী সন্দীপানন্দের আশ্রম। শুক্রবার গভীর রাতে সেই আশ্রমেরই এক অংশে অাগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হল।
তিরুবনন্তপুরমের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় স্বামী সন্দীপানন্দের আশ্রম। শুক্রবার আশ্রম চত্বরের একটি মেয়েদের স্কুলে আগুন লাগানো হয়। পাশপাশি, ২টি গাড়ি ও একটি স্কুটারেও আগুন লাগায় হামলকারীরা। রাত আড়াইটের সময় আশ্রমে হামলা চলে। দাউ দাউ করে আশ্রমের এক অংশ জ্বলতে দেখেন আবাসিকরা।
সন্দীপানন্দ আশ্রমের প্রধান স্বামী সন্দীপানন্দ গিরির অভিযোগ, শবরীমালা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সমর্থন করার কারণেই আশ্রমে আগুন লাগানো হয়েছে। শবরীমালায় মহিলার অবাধ প্রবেশের সুপ্রিম রায়কে সমর্থন করে বেশ কয়েকটি মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন সন্দীপানন্দ। তিনি জানান, তারপর থেকেই হুমকি ফোন পাচ্ছিলেন তিনি। আশ্রমেও হুমকি চিঠি আসতে থাকে। তিনি অভিযোগ করেন, এর পিছনে সঙ্ঘ পরিবারের হাত রয়েছে। বিজেপি-র স্থানীয় শাখা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। কেরলের পুলিশ প্রধান লোকনাথ বেহেরা বলেছেন এই জাতীয় ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার কড়া নিন্দা করে কেরলের অর্থমন্ত্রী টমাস আইজাক বলেছেন, খুন করার উদ্দেশ্যেই আগুন লাগানো হয়েছিল। য়ে হেতু সন্দীপানন্দ প্রথম থেকেই সঙ্ঘ পরিবারের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে লড়ছেন, তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য।
শ্রীনগরে গভীর রাতে পাওয়ার গ্রিড স্টেশনে হামলা, শহিদ সেনা আধিকারিক
আবাসিকদের অভিযোগ, শবরীমালা বাঁচাও কমিটির সদস্যরাই আশ্রমে আগুন লাগিয়েছে। অবশ্য, আশ্রমের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে মুখ খোলেনি শবরীমালা বাঁচাও কমিটি। গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তাঁর দাবি, যে কোন সময় আইন হাতে নিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে শবরীমালা বাঁচাও কমিটির সদস্যরা। আশ্রমে আগুন লাগার ঘটনার তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে, শবরীমালা বাঁচাও কমিটির বিরুদ্ধে স্বামী সন্দীপানন্দ অভিযোগ দায়ের করেছেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শবরীমালা বাঁচাও কমিটির সমালোচনা করলেও, শবরীমালা কাণ্ডে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীর গ্রেফতারের নিন্দা করেছে কেরল হাই কোর্ট। শনিবার কেরল পুলিশের তীব্র নিন্দা করে কেরল হাই কোর্টের প্রশ্ন, কোনওরকম অভিযোগ ছাড়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে কী ভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুসারে গত এক মাসে ২০৬১ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের বেশিরভাগই শবরীমালা বাঁচাও কমিটির সদস্য।
হাই কোর্টের নিন্দার জেরে কেরল পুলিশ বিপাকে বলেও মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে,সন্দীপানন্দের আশ্রমে আগুন লাগানোর ঘটনাকে কতটা শক্ত হাতে সামলাবে পুলিশ, তা কঠিন প্রশ্ন।
The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন