দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগ্নেয়াস্ত্র, পাথর, ধারালো অস্ত্র হাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাইক বাহিনী। পাশাপাশি রাস্তার উপর জ্বলছে টায়ার, ফাটছে বোমা, পুলিশের উপর হামলা চলছে লাগাতার। শবরীমালার ভিতরে দুই মহিলার প্রবেশের বিরুদ্ধে এভাবেই কেরল জুড়ে চলেছে প্রতিবাদ।বৃহস্পতিবার বিক্ষোভের দাপটে কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয় রাজ্যের অধিকাংশ শহরে। এখনও পর্যন্ত ৭৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে বিক্ষোভ মিছিলে চলেছে লড়াই।যার জেরে মৃত্যুও হয়েছে একজনের, আহত বহু। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে কেরল পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে
শবরীমালা কর্ম সমিতির ডাকা বন্ধ শুরু হয়। সারাদিন কেরলের বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। মূলত শবরীমালা কর্ম সমিতি বিজেপির প্রচ্ছন্ন সমর্থনে চলা সংগঠন। বুধবার শবরীমালার অন্দরে দুই মহিলার প্রবেশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে তীব্র প্রতিবাদ এই সংগঠনই করে। রাতারাতি বদলে যায় পরিস্থিতি। প্রথমে শবরীমালার সামনে, তারপর কেরলের বিভিন্ন শহর জুড়ে চলে বাইক বাহিনীর দাপট। নিমেষে যা রাজনৈতি সংঘর্ষের রূপ নেয়। কারণ, একদিকে এই বন্ধকে সমর্থন করছে বিজেপি, অন্যদিকে কংগ্রেস দিন টিকে
ব্ল্যাক ডে বলে মন্তব্য করে। এর ফলে দুই রজনৈতিক দলের কর্মীরাই লড়াইয়ে নামে। বাইক বাহিনীর দাপটে প্রায় তিরিশ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। বিক্ষোভের আঁচ শুক্রবার পর্যন্ত থাকবে বলে জানা যাচ্ছে।যদিও রাজ্যবাসীকে ভয় পেতে মানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

৫০ বছরের কম বয়সি দুই মহিলা বুধবার ভোরে শবরীমালায় পুজো দেওয়ার পরেই রাজ্য জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। বন্ধ করে রাখা হয় রাস্তা, দোকান, বাজার। আক্রমণ করা হয় সাংবাদিকদের উপর। তখনই আহত হন শবরীমালা কর্ম সমিতির সদস্য, চন্দ্রন উন্নিথান নামের ৫৫ বছরের এক ব্যক্তি। তাঁর মাথায় পাথর ছুড়ে মারার অভিযোগ ওঠে। রাতেই হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। এর পরেই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।