
শেষ আপডেট: 18 October 2023 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: গোমস্তা, কর্মচারীরাই আগে পুজোর আয়োজন করতেন। তদারকিতে থাকতেন বাড়ির পুরুষরা । কিন্তু মহিলারা থাকতেন চিকের আড়ালে। এভাবেই এক সময় শুরু হয়েছিল কাটোয়ার মুহুরি বাড়ির দুর্গাপুজো।
কাটোয়ার বনেদিবাড়ির পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম মহুরি বাড়ির পুজো। প্রায় তিনশো বছর পার করেছে এই বনেদিবাড়ির পুজো। নিয়মে তেমন কোনও বদল না হলেও ছক ভেঙে বাড়ির মহিলারাই পুজোর জোগার করেন। বাজারহাটের দায়িত্বে থাকেন পুরুষেরা।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রামধন মুহুরি কাটোয়ায় ব্যবসা করতে এসেছিলেন। সেখানে তিনি নুনের ব্যবসা শুরু করেন। এই ব্যবসা থেকেই প্রতিপত্তি বেড়ে ওঠে রামধনের। জমিদারিও কেনেন তিনি। শুরু করেন দুর্গাপুজো।
বাড়িতে রয়েছে ঠাকুরদালান। সেখানে প্রতিমা তৈরি হয়ে আসছে আজও। জমিদারি আমলে চারদিন ধরে দুর্গাপুজো ঘিরে বাড়ির নাটমন্দিরে বসত যাত্রার আসর। সেই সময় বাড়ির মহিলাদের ঠাকুর দালানে আসা নিষেধ ছিল। এমনকী পুজোর কাজকর্মে অংশগ্রহণ নেওয়ার নিয়ম ছিল না তাঁদের। অন্দরমহলে থেকেই তাঁরা পুজোর আনন্দ উপভোগ করতেন। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলে গিয়েছে এই প্রাচীন রীতি। এখন বাড়ির মহিলাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পুজোর ভার।
পুরনো নিয়ম মেনেই এখনও রথের দিনেই কাঠামো পুজো হয় এই বাড়িতে। মায়ের গায়ে মাটি দিয়ে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয় এই দিন থেকেই। একই মৃৎশিল্পীর বংশধরেরা পরম্পরাগতভাবে বাড়িতে এসে প্রতিমা তৈরি করেন। শাক্তমতে পুজোর রীতি রয়েছে এখানে। চারদিন ধরে চলে অন্নভোগ। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ছাগ বলি দেওয়া হয়। নবমীর দিন কুমারী পুজোরও প্রচলন রয়েছেন মহুরি বাড়িতে।
বিসর্জনে রীতিতে বদল হয়নি এখানে। বাড়ি থেকে গঙ্গারঘাট পর্যন্ত বেহারাদের কাঁধে দেবীর বির্সজন যাত্রা হয়। পরে ওই কাঠামো বাড়িতে নিয়ে আসা হয় পরের বছরের প্রতিমা নির্মাণের জন্য।
মুহুরি পরিবারের অনেকেই এখন বিদেশে রয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে কর্মক্ষেত্রে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরেন তাঁরা। সদস্যদের কোলাহলে ভরে ওঠে গোটা বাড়ি। উৎসবের আনন্দে মাতে কচিকাঁচারা।