দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ এমবিএ, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ বা পিএইচডি স্কলার। এত পড়াশোনা করেও শেষ পর্যন্ত তাদের পরিচয় হচ্ছে জঙ্গি। এই উচ্চশিক্ষিত কাশ্মীরি যুবকরা নাম লেখাচ্ছে জঙ্গি দলে। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দাদের রিপোর্টে।
বিভিন্ন ধরনের প্রচার সত্ত্বেও কাশ্মীরি যুবকরা সন্ত্রাসের পথে হাঁটছে। তাদের ফিরিয়ে আনা একরকমভাবে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে ফের জঙ্গি দলে নাম লেখালো এক কাশ্মীরি ছাত্র। গত সপ্তাহ থেকে নিখোঁজ এমবিএ ছাত্র ইশফাক আহমেদ ওয়ানি লস্কর-ই-তৈবার দলে নাম লিখিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি বন্দুক হাতে ইশফাক আহমেদের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এদিকে তাকে সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে বাড়ি ফেরার আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। আধিকারিকদের মতে, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে এখনও পর্যন্ত কাশ্মীরের ৪৫ জন যুবক জঙ্গি সংগঠনে নাম লিখিয়েছে, যার মধ্যে এমবিএ ছাত্র থেকে রয়েছে পিএচডি স্কলাররাও।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতেই প্রথম চার মাসে ৫৫ জঙ্গি, ২০ নিরাপত্তা আধিকারিক, ২৫ স্থানীয় নাগরিক সহ ১০০ জনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে উপত্যকায়। । ৫৫ জঙ্গির মধ্যে ২৭ জন স্থানীয় এবং বাকিরা বহিরাগত বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে ১২৬ জন তরুণ সন্ত্রাসের পথকেই বেছে নেয় বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছে। ২০১০ সালের পর ২০১৭ সালে এই সংখ্যা সবথেকে বেশি বলে জানা যাচ্ছে।
কিন্তু এত পড়াশোনা করার পরেও কেন ঘটছে এই ধরণের ঘটনা। কারণ হিসেবে উঠে আসছে বেশ কিছু প্রসঙ্গ। এক, কাশ্মীর থেকে যখন তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পড়াশোনা করতে যাচ্ছে, তখন দেখতে পাচ্ছে অনেক জায়গাতেই কাশ্মীরের লোকেদের প্রতি সাধারণ জনগনের দৃষ্টি ভিন্ন ধরণের। দুই, কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় সেনা ধরপাকর ও পুলিশি কার্যকলাপকে ভালোভাবে নিচ্ছে না এইসব শিক্ষিত ছেলেরা। তিন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই শিক্ষিত ছেলেদের ব্রেন ওয়াশ করছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। ফলে ঘটছে এই ধরণের ঘটনা। জঙ্গি দলে নাম লেখাচ্ছে এই সব শিক্ষিত কাশ্মীরি যুবকরা।