বিশ্ববিদ্যালয়ের Center for Floriculture and Agri-Business Management বিভাগে বিজ্ঞানী ড. অমরেন্দ্র পান্ডের নেতৃত্বে তিন বছরের নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে মিলল এই সাফল্য। দীপাবলির দিনে প্রথম ফুটেছে এই ‘লাল সোনা'। গবেষণার জয়ে উৎসবের আলো তাই আরও উজ্জ্বল হয়েছে এবার।

শেষ আপডেট: 27 October 2025 19:24
সায়ন সাহা, শিলিগুড়িঃ কাশ্মীরের পাহাড়ে কারেওয়া মাটিতে জন্ম নেওয়া বেগুনি রঙের ক্রোকাস ফুল, যার গর্ভে লুকিয়ে থাকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি মশলা কেশর (Saffron)। সেই বিরল ফুলই এবার ফুটেছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের Center for Floriculture and Agri-Business Management বিভাগে বিজ্ঞানী ড. অমরেন্দ্র পান্ডের নেতৃত্বে তিন বছরের নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে মিলল এই সাফল্য। দীপাবলির দিনে প্রথম ফুটেছে এই ‘লাল সোনা'। গবেষণার জয়ে উৎসবের আলো তাই আরও উজ্জ্বল হয়েছে এবার।
ড. পান্ডে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে অ্যারোপেনিক (Aeroponic) প্রযুক্তিতে কেশর চাষ সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে মাটি ব্যবহার না করে গাছের শিকড়ে বিশেষ কুয়াশা বা এরোসল স্প্রে করে চাষ করা হয়। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আলো-নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এই চাষ করে সফল হয়েছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি ও আবহাওয়া অনুযায়ী উত্তরবঙ্গেও কাশ্মীরের মতো কেশর উৎপাদন সম্ভব। আপাতত উৎপাদিত ফুল ও কেশরের নমুনা শ্রীনগরের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে গুণমান যাচাইয়ের জন্য। ফল ইতিবাচক হলে উত্তরবঙ্গে বাণিজ্যিক চাষ শুরু করা যাবে।” এর আগেও তাঁর তত্ত্বাবধানে কালিম্পংয়ের চাষি প্রশান্ত পাটোয়া প্রায় ৭ একর জমিতে কেশর চাষে সাফল্য পান। এবার কার্শিয়াংয়েও চাষ শুরু হয়েছে, এবং শিগগিরই সেখান থেকেও ভালো ফলাফলের আশা করছেন গবেষক।
বিশ্বের সবচেয়ে দামি মশলা কেশরের প্রতি কেজির দাম বর্তমানে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এক কেজি কেশর পেতে প্রয়োজন হয় দেড় লক্ষাধিক ক্রোকাস ফুল। এই ফুল বছরে মাত্র একবারই ফোটে, জোগান কম এবং দাম আকাশছোঁয়া। কেশরে থাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক। বিরিয়ানি, মিষ্টি, কুলফি বা পায়েসে যেমন এর ব্যবহার তেমনি আয়ুর্বেদেও এর ঔষধি গুণের কদর রয়েছে।
ড. পান্ডে জানান, “সেপ্টেম্বর মাসে কাশ্মীর থেকে ১০০টি কেশর বাল্ব এনে তাঁরা অ্যারোপেনিক পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেছিলেন। অক্টোবরেই ফুল এসেছে—এটাই এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের খবর। এখন বৃহৎ পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে কেশর উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই সাফল্য উত্তরবঙ্গের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। স্থানীয় চাষিরা ভবিষ্যতে কেশর চাষে যুক্ত হলে উত্তরবঙ্গও ‘লাল সোনা’র নতুন রাজধানী হিসেবে উঠে আসতে পারে।