
শেষ আপডেট: 28 May 2022 06:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে আজও মেয়ে সন্তান জন্ম নিলে মুখ কালো হয়ে যায় আপনজনের। পাড়াপড়শিরাও ঠিক খুশি হতে পারেন না। নারীবাদকে আঁকড়ে আজকালকার মেয়েরা যতই দেশের শীর্ষে পৌঁছন, ভারতের কোণায় কোণায় আজও পুরুষতন্ত্রের নিগড় বহমান। কিন্তু জম্মু কাশ্মীরের (Kashmir) বন দফতর সম্প্রতি এমন এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা কন্যাসন্তানদের (Girl Child) দূরে ঠেলে দেয় না, বরং দু'হাত দিয়ে তাদের আগলে রাখে।
জম্মু কাশ্মীরের (Kashmir) বন দফতর সম্প্রতি ঘোষণা করেছে রাজ্যের কোথাও কোনও বাড়িতে মেয়ে জন্মালেই তাঁরা সেই মেয়ের নামে একটি করে গাছ পুঁতবেন। উপত্যকার নতুন স্লোগান এখন, ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’ নয়। তা বদলে হয়েছে ‘একটি কন্যা একটি গাছ’।
কাশ্মীরের বন দফতর খাতায় কলমে এই উদ্যোগের নাম দিয়েছে ইকো-ফেমিনিজম (Kashmir)। রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে কোথাও মেয়ে জন্মানোর খবর পেলেই হল। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যাচ্ছেন বনকর্মীরা। সেই সদ্যোজাত শিশুকন্যার নাম জেনে তাঁর নামেই লাগানো হচ্ছে নতুন গাছের চারা। এতে একদিকে পরিবেশ রক্ষাও হচ্ছে, আবার সমাজের কাছে বার্তাও যাচ্ছে, মেয়ে সন্তান ফেলনা হয়।
আরও পড়ুন: সবজির দামে আগুন, এবার বাড়তে পারে মাছের দামও
উল্লেখ্য, কাশ্মীরে (Kashmir) একটি সমীক্ষা থেকে জানা গেছে সেখানে নানা কারণে বয়স পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও বহু মেয়ে অবিবাহিত। সংখ্যাটা প্রায় ৫০ হাজারের বেশি। আর্থিক সঙ্কট অবশ্যই একটা বড় কারণ।
কাশ্মীরের বন দফতর আশাকর্মীদের ইকো-ফেমিনিজমের কাজে নিয়োগ করেছে। আশাকর্মীরা খোঁজখবর রাখেন কোথায় কোন প্রসূতি সন্তান জন্ম দিচ্ছে, আর কোথায় পরিবারের কোল আলো করে আসছে ফুটফুটে মেয়ে। বন দফতরের কাছে সেই খবর এসে পৌঁছলে বনকর্মীরা চলে যান সেই প্রসূতির বাড়ি। সেখানে গিয়েই সদ্যোজাতর নামে একটি করে গাছের চারা লাগিয়ে আসেন তাঁরা।