দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েক সপ্তাহ আগে বাড়তি ৩৮ হাজার সেনা আনা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে। উপত্যকা জুড়ে এখনও জারি আছে কড়াকড়ি। কোনও কোনও জায়গায় চলছে কার্ফু। শুক্রবারও কাশ্মীরে চলাফেরা ও জমায়েতের ওপরে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। তবে একটি সূত্র থেকে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা সম্ভবত উঠবে ১১ অগাস্ট। ইদ-উল-জোহার আগের দিন। তার ফলে জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ উৎসবের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
সিআরপিএফের এক অফিসার জানিয়েছেন, আমরা শুক্রবার কড়াকড়ি শিথিল করার কোনও নির্দেশ পাইনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের রাস্তায় অনেক বেশি অসামরিক গাড়ি দেখা গিয়েছে। শুক্রবার কোনও কোনও জায়গায় হয়তো কড়াকড়ি শিথিল করা হবে। তার আগে সেনাবাহিনী খতিয়ে দেখবে কোথায় কোথায় অশান্তির সম্ভাবনা কম। যদিও এই নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
ভারতীয় সেনা অশান্তিপ্রবণ এলাকাগুলির একটি তালিকা তৈরি করেছে। তার মধ্যে আছে শোপিয়ান, পুলওয়ামা, অনন্তনাগ ও সোপোর। গত রবিবার রাত থেকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে পুরো কাশ্মীর উপত্যকা। সোমবার সরকার ৩৭০ ধারা বাতিলের কথা ঘোষণা করে। সেই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরকে দু'টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার প্রস্তাব দেয়।
গত কয়েকদিনে কাশ্মীরের কোনও কোনও এলাকা থেকে পাথর ছোঁড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসনের এক কর্তা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় উত্তর কাশ্মীরে পাঁচটি ও দক্ষিণ কাশ্মীরে দু'টি এলাকা থেকে পাথর ছোঁড়ার খবর এসেছে। কিন্তু যারা পাথর ছুঁড়ছে, তাদের সংখ্যা নেহাৎ কম। কাশ্মীরের প্রত্যন্ত এলাকাগুলি শান্তই রয়েছে। কিছু কিছু দোকানপাটও খুলেছে।
কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তারা সরকারিভাবে ঘোষণা করেনি, কবে নিষেধাজ্ঞা উঠছে। কিন্তু একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবারের প্রার্থনা যাতে নির্বিঘ্নে হতে পারে, সেজন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসন মানুষকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সরকারি দফতরে ল্যান্ডলাইন ও লিজলাইন চালু হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও কিছু কিছু লাইন চালু হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বৃহস্পতিবার বলেছেন, আমরা ৩৭০ ধারা বিলোপ করায় পাকিস্তান অখুশি। কিন্তু আমাদের সেনাবাহিনী যে কোনও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় প্রস্তুত।