
শেষ আপডেট: 25 January 2021 10:27

তাণ্ডব ওয়েব সিরিজ ঘিরে এমন সমস্যার কারণটি কী?
বস্তুত, সিরিজের প্রথম পর্বটি নিয়েই সমস্যা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই পর্বে দেখানো হয়েছে, অভিনেতা মহম্মদ জিশান আয়ুব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে গিয়ে ভগবান শিবের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, তোমরা কার থেকে স্বাধীনতা চাও? এরপর ওই দৃশ্যে দেখানো হয় পড়ুয়ারা স্টেজে উঠে আসার পরই ‘নারায়ণ নারায়ণ’ ধ্বনি ওঠে। প্রথম পর্বের এই অংশটি নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দাবি করা হয়েছে, ভগবান শিবকে খর্ব করে দেখানো হয়েছে এখানে। হিন্দু ধর্ম নিয়ে কোনও বিরূপ মন্তব্য মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি।
এছাড়াও এ ছবির আরও একটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছে এক কলেজ ছাত্রী কিছু কথা বলছে। তার মত জানাতে গিয়ে সে বলছে, নিম্নবর্ণের একটি ছেলে এবং উচ্চবর্ণের একটি মেয়ের মধ্যে সম্পর্ক মানে তা যে কেবলই মেয়েটির বিরুদ্ধে ছেলেটির প্রতিশোধ, তা নয়। তারা পরস্পরকে ভালওবাসতে পারে। এই নিয়েও ঘনিয়েছে বিতর্ক।
এক নেটিজেন দাবি করেন, সিরিজের পরিচালক আলি আব্বাস যেহেতি বাম মনোভাবাপন্ন একজন মানুষ, তাই তিনি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এই ছবি বানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এসবের পাশাপাশি বম্বে হাইকোর্টের আইনজীবী আশুতোষ দুবে আইনি নোটিসও জারি করেন ওয়েব প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইম এবং পরিচালকের বিরুদ্ধে। বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রও এ নিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে দাবি করেন, হিংসা ছড়ানোর জন্য ও হিন্দু ধর্মকে নিচু করার জন্যই এই ওয়েব সিরিজ বানানো হয়েছে।
এর পরেই তাণ্ডবের কলাকুশলীরা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই ওয়েব সিরিজ কাল্পনিক। কোনও ধর্মের বা কারও ভাবাবেগে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, “তাণ্ডব একটি কাল্পনিক গল্প। কোনও ঘটনা বা কারও সঙ্গে কোনও মিল পাওয়া গেলে তা নিছকই কাকতালীয় ঘটনা। কলাকুশলীদের কারও মনোভাব এমন ছিল না যাতে কোনও ব্যক্তি, জাতি, শ্রেণি, রাজনৈতিক দল, ধর্ম বা ধার্মিক মনোভাবে আঘাত লাগে। তাই যদি কারও আবেগে আঘাত লেগে থাকে তাহলে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছেন তাণ্ডবের কলাকুশলীরা।" এর পরেও হুমকি ও বিদ্বেষের শেষ নেই তাণ্ডব ঘিরে। এটিই অবশ্য প্রথমবার নয়। এর আগেও বলিউডের বেশ কিছু সিনেমাকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কারও কারও মতে, ইদানীং যেন বেড়েছে এই ঘটনা। পরিচালক, গল্পকারদের স্বাধীনতা হনন করতে উঠে পড়ে লেগেছেন এক শ্রেণির মানুষ। এর আগে 'পদ্মাবত'কে কেন্দ্র করেও সারা দেশ তোলপাড় হয়েছিল। এই কর্ণি সেনার মানুষরাই দীপিকা পাড়ুকোনের নাক কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে 'তাণ্ডব'-এর এই আগুন আর কতদূর ছড়ায় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।