দ্য ওয়াল ব্যুরো : কর্ণাটকের এক প্রাথমিক স্কুলে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী নাটক নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছিল পুলিশ। নাটকে অভিনয় করেছিল নয় থেকে ১১ বছর বয়সী ছেলেমেয়েরা। তাতে একজনের মুখে সংলাপ ছিল, কেউ যদি নথি দেখতে চায়, জুতো খুলে মারব। ওই নাটক নিয়ে দেশদ্রোহিতার মামলা হয়। কিন্তু বিদারের এক দায়রা আদালত শুক্রবার বলেছে, ওই নাটকের ফলে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হয়েছে বলে প্রমাণ নেই। পুলিশ যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, তাদের সকলকেই আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে ওই নাটক হয়। বিজেপি শাসিত কর্ণাটকের পুলিশ এরপরে বাচ্চাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের বাবা-মা, স্কুলের শিক্ষক ও ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও দফায় দফায় জেরা করা হয়। যার মুখে জুতো মারার সংলাপ ছিল তার মা এবং স্কুলের হেড টিচারকে পুলিশ আটক করেছিল। কিন্তু শুক্রবার বিদারের আদালত বলেছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে মনে হচ্ছে, দেশদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা করার মতো তথ্যপ্রমাণ এক্ষেত্রে নেই। স্কুলের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত পাঁচজনকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে।
খুব শীঘ্র কর্ণাটকে আর একটি দেশদ্রোহিতার মামলায় রায় দেবে কোর্ট। সেই মামলাটি হয়েছিল তিন কাশ্মীরি ছাত্রের বিরুদ্ধে। তারা হুবলিতে পড়াশোনা করে। অভিযোগ, অনলাইন পোস্টে তারা পাকিস্তানের হয়ে স্লোগান লিখেছিল। হুবলি বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বলা হয়েছে, কোনও উকিল যেন তাদের হয়ে না দাঁড়ায়। বেঙ্গালুরু থেকে এক উকিল ছাত্রদের হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি হুবলিতে গেলে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার কর্ণাটকের বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েকজন আইনজীবী ফের হুবলিতে যান। পুলিশ তাঁদের নিরাপত্তা দেয়। তাঁদের অন্যতম বি টি বেঙ্কটেশ জানান, হুবলি বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনায় বসে তাঁরা একটি সিদ্ধান্তে এসেছেন। অভিযুক্তরা জামিনের জন্য আবেদন করেছে। খুব শীঘ্র আদালত এসম্পর্কে রায় দেবে।