দ্য ওয়াল ব্যুরো : কর্নাটকের উপকূলবর্তী অঞ্চলে গত ক'দিন ধরে ভারী বর্ষণ চলছে। হু হু করে বাড়ছে বহু নদীর জলস্তর। এই পরিস্থিতিতে উত্তর কন্নড় জেলার বিশাল এক বাঁধের সবক'টি গেট খুলে দিল রাজ্য সরকার। এর ফলে কালিন্দী ও কাদরা নদীর দু'পারে বন্যা রোধ করা যাবে। রাজ্যের আরও কয়েকটি বাঁধ থেকেও জল ছাড়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি নদীর জল বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা এখন কোভিড চিকিৎসার জন্য আছেন হাসপাতালে। সেখান থেকেই তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, করোনা সংকটের মধ্যে বন্যা মোকাবিলায় ৫০ কোটি টাকা খরচ করতে হবে।
যে জেলাগুলিতে গত কয়েকদিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যে আছে কোদাগু। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কুর্গ ওই জেলায় অবস্থিত। এছাড়া গোকর্ণ, চিকমাগালুর, হাসান ও মাইসুরুর মতো এলাকাতেও প্রবল বর্ষণ হয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলির মধ্যে বৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর কন্নড়, দক্ষিণ কন্নড় এবং উদীপি জেলা। মহারাষ্ট্রের সীমান্তে অবস্থিত বেলগাভি এবং রাজ্যের উত্তরের কয়েকটি জেলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবহবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনে আরও বৃষ্টির কবলে পড়তে চলেছে রাজ্য। কাবেরী নদীর উৎসস্থলে ইতিমধ্যে বন্যা হয়ে গিয়েছে। গোয়া-কর্নাটক সীমান্তে ধস নেমেছে বলে জানা গিয়েছে। ইন্ডিয়ান মেটিরিওলজিকাল ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর সি এস পাতিল বলেছেন, "উদীপি, দক্ষিণ কন্নড়, উত্তর কন্নড়, চিকমাগালুর, শিবমোগা, কোদাগু ও হাসান জেলায় আগামী কয়েকদিনে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ওই জেলাগুলিতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।"
গত বছরেও কর্নাটক প্রবল বন্যার কবলে পড়ে। কংগ্রেস-জনতা দল সেকুলার সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েই ইয়েদুরাপ্পা প্রথমে বন্যাকবলিত রাজ্যগুলি পরিদর্শনে যান।
কর্নাটকের প্রতিবেশী রাজ্য মহারাষ্ট্রও গত কয়েকদিন ধরে বন্যার কবলে পড়েছে। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সাবার্বান ট্রেনগুলি চলাচল শুরু করেছে। তবে আবহবিদরা বলেছেন, এদিনও ভারী বৃষ্টি হবে মুম্বই তার সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায়।
৯ অগাস্ট পর্যন্ত কেরলেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত ওয়ানাড় ও কোঝিকোড় জেলার জন্য সরকারকে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।