
শেষ আপডেট: 19 May 2023 06:43
অমল সরকার
আগামীকাল শনিবার বেঙ্গালুরুতে শপথ নেবে কর্নাটকের নতুন মন্ত্রিসভা (Karnataka oath ceremony)। মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রী পদে যথাক্রমে সি সিদ্দারামাইয়া এবং ডিকে শিবকুমারের পর বাকি মন্ত্রীরা দলবদ্ধ হয়ে শপথ গ্রহণ করবেন। সব মিলিয়ে মিনিট পনেরোর অনুষ্ঠান।
সংক্ষিপ্ত এই শপথ অনুষ্ঠানের জন্য কয়েক কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই খরচ হবে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও নেতাদের (which leaders are beside Congress) আপ্যায়ণ বাবদ। তাঁদের জন্য শহরের পাঁচতারা হোটেলের স্যুট বুক করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কংগ্রেস আমন্ত্রিতদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, টিডিপি নেতা কে চন্দ্রবাবু নাইডু, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও, অন্ধ্র ও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে জগনমোহন রেড্ডি এবং নবীন পট্টেনায়েক ও বিএসপি নেত্রী মায়াবতী এবং কর্নাটকেরই জেডিএস নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়া ও তাঁর পুত্র কুমারস্বামীর নাম নেই। যদিও শেষের দু’জনকে শেষ পর্যন্ত আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাঁচ বছর আগে প্রথমে সরকারে এসেছিল জেডিএস-কংগ্রেস সরকার। দেড় বছরের মাথায় কংগ্রেসের বিধায়ক ভাঙিয়ে সরকার গড়ে বিজেপি। সেবার জেডিএস নেতা এইচডি কুমারস্বামী মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন। উপমুখ্যমন্ত্রী হন কংগ্রেসের জি পরমেশ্বর। সেই শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চ হয়ে উঠেছিল দেশের বিজেপি বিরোধী নেতাদের মহামিলন ক্ষেত্রে।
তথ্য জানার অধিকার আইন বলে পরে জানা যায়, ভিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও নেতাদের আপ্যায়ণে কর্নাটক সরকারকে এক রাতের জন্য খরচ করতে হয়েছিল ৪৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বিল হয় অন্ধ্রপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর। তাঁর জন্য হোটেল বিল মেটাতে হয় আট লাখ ৭২ হাজার টাকা। নাইডুর অতিথিদের খাওয়ার খরচও মেটায় কর্নাটক সরকার।
কুমারস্বামীর সরকারে কংগ্রেস থাকলেও শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের চিঠি গিয়েছিল জেডিএসের নামে। তবে আমন্ত্রিতের তালিকা তৈরি হয়েছিল কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে। এবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং সাধারণ সম্পাদক সংগঠন কেসি বেণুগোপাল অন্য দলের নেতা ও মুখ্যমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন।

২০১৮-তে কুমারস্বামীর শপথ অনুষ্ঠানকে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বিজেপি বিরোধী মঞ্চ হিসাবে তুলে ধরতে কম কসুর করেনি কংগ্রেস। সনিয়া গান্ধীকে মধ্যমণি করে হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। যদিও ভোট যত এগিয়েছে ততই ফিকে হয়ে গিয়েছে বোঝাপড়ার সম্ভাবনা। মোটা টাকা খরচ করে বিজেপি বিরোধী বোঝাপড়া গড়ে তোলার উদ্যোগ মাঠে মারা যায়।
আগামীকাল সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমারের শপথ অনুষ্ঠানকেও ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি বিরোধী মঞ্চ হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে কংগ্রেস। কিন্তু তারা কতটা সফল হবে তা নিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের আগেই জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, অনেক নেতাকেই কংগ্রেস তাদের দলীয় অঙ্ক মাথায় রেখে আমন্ত্রণ জানায়নি। যেমন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তেলেঙ্গালার কেসিআর, অন্ধ্রের জগনমোহন ও চন্দ্রবাবু নাইডু এবং বিএসপি নেত্রী মায়াবতী। যদিও সংসদের বিগত অধিবেশনে সরকার বিরোধী অবস্থানে কংগ্রেসের পাশে থাকা ১৮টি দলের মধ্যে টিডিপি, বিআরএস এবং আম আদমি পার্টি ছিল।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, শনিবারের শপথ অনুষ্ঠানে ভিন্ন দলের নেতাদের উপস্থিতির ব্যাপারে কংগ্রসে সবচেয়ে আগ্রহী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। মমতা সম্প্রতি বিজেপি বিরোধী জোট নিয়ে যে ফরমুলার কথা বলেছেন তাতে বাংলার অধীর চৌধুরী, প্রদীপ ভট্টাচার্যরা তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে গলা চড়ালেও কংগ্রেসের দিল্লির নেতারা মুখ খোলেননি। বরং অনেক নেতা একান্তে তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যকে সঠিক বলেছেন। এমনকী মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে লড়াইয়ে ব্যস্ত কর্নাটকের নেতা ডিকে শিবকুমার পর্যন্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। কংগ্রেস মনে করছে বিজেপি বিরোধী বোঝাপড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে পাওয়া গেলে কেজরিওয়াল, অখিলেশ, কেসিআরের মতো অনেক নেতার কংগ্রেস সম্পর্কে অবস্থানের বদল ঘটবে।
কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত যাবেন না। তাঁর পরিবর্তে তৃণমূলের কোনও নেতা যেতে পারেন। বলাই বাহুল্য, মমতা যাওয়া আর তাঁর প্রতিনিধি যাওয়া এক নয়। এখন দেখার সনিয়া বা কংগ্রেসের কোনও শীর্ষ নেতা তৃণমূল নেত্রীকে ফোনে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানান কি না।
আসলে ২০১৮-তে কুমারস্বামীর শপথ অনুষ্ঠানে মঞ্চ আলো করে ছিলেন মমতাই। সেই মঞ্চেই সনিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী, রাহুল গান্ধী, সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল, উত্তরপ্রদেশের রাষ্ট্রীয় লোকদলের অজিত সিং, অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু, সমাজবাদী পার্টি অখিলেশ, আরজেডির তেজস্বী যাদব প্রমুখ। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপিক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘জো হামসে টকরায়েঙ্গে, চুর চুর হো জায়েগা।’
অকংগ্রেস-অবিজেপি শিবিরের বহু নেতা মনে করেন, কংগ্রেসের উচিৎ ছিল এনডিএ-তে না থাকা সব দলকেই ২০২৪-এর কথা মাথায় রেখে বেঙ্গালুরুর মঞ্চে হাজির করার চেষ্টা করা। হয়তো সকলে আমন্ত্রণ গ্রহণ করতেন না। কিন্তু কংগ্রেস যাঁকে আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে বোঝাপড়া গড়ে তোলার দায়িত্ব দিয়েছে সেই নীতীশ কুমারের সুবিধা হত পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নিতে। তাছাড়া, কর্নাটক পর্ব মিটতেই নীতীশ পাটনার অবিজেপি দলগুলির কনক্লেভ ডাকতে চলেছেন। সেটি সফল করে তোলার জন্যও কর্নাটকের শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে কংগ্রেসের আরও উদার হওয়া সময়ের দাবি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশও। যদিও কংগ্রেসের ব্যাখ্যা, সাড়া দেবেন না জেনেই কিছু নেতা ও মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। তাতে ওই নেতাদের অনুপস্থিতিই প্রচার পেয়ে যাবে বেশি।
ভানু বাগের মৃত্যু ওড়িশার হাসপাতালে, এগরা বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত ছিল বাজি সম্রাট