দ্য ওয়াল ব্যুরো : তবলিঘি জামাত নামে এক ধর্মীয় সংগঠনের মাধ্যমে দেশে ১৫০০ জন কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই সংগঠনের কয়েকজন সদস্যের প্রশংসা করে শো-কজের মুখে পড়লেন কর্নাটকের আইএএস অফিসার মহম্মদ মহসিন। গতবছর লোকসভা ভোটের আগে তিনিই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হেলিকপ্টার পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেজন্য তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। তার ঠিক এক বছরের মাথায় ফের বিতর্কের মুখে পড়লেন ওই অফিসার।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মহম্মদ মহসিন লিখেছেন, তবলিঘি জামাতের কয়েকজন সদস্য সুস্থ হয়ে ওঠার পর প্লাজমা দান করছেন। তা করোনার চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে কাজে লাগানো হবে। যাঁরা প্লাজমা দান করছেন, তাঁরা হিরো। কোভিড ১৯ রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁরা যে ভূমিকা নিচ্ছেন, তার স্বীকৃতি মেলেনি।
গত ২৭ এপ্রিল মহম্মদ মহসিন টুইট করেন, “৩০০-র বেশি তবলিঘি হিরো দেশের স্বার্থে প্লাজমা দান করেছেন। কিন্তু মিডিয়া কী করছে? তারা এই মানবিক কাজের কথা তুলে ধরছে না।” কর্নাটক সরকার এই টুইটের সমালোচনা করে বলেছে, করোনা অতিমহামারীর মতো একটি গুরুতর বিষয়ে অমন মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। আইএএস অফিসারকে শো-কজের জবাব দেওয়ার জন্য পাঁচদিন সময় দেওয়া হয়েছে।
মহসিন বলেন, “কোভিড ১৯ নিয়ে সরকারের ৪০-৫০ টি মেসেজ আমি টুইটারে শেয়ার করেছি। মুখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ডে দান করার জন্য যে আবেদন করা হয়েছিল, তাও শেয়ার করেছি।” তাঁর কাছে শো-কজের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি ওই নোটিস পেয়েছি। আইনমাফিক তার জবাব দেব।”
এর আগে তবলিঘি জামাত নিয়ে মন্তব্য করেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। গত রবিবার নাগপুরে সঙ্ঘের সদর দফতর থেকে স্বয়ংসেবকদের উদ্দেশে অনলাইনে একটি বার্তা দেন ভাগবত। তিনি বলেন, “নিয়ম ও অনুশাসন রক্ষা করাটা প্রশাসনের দায়িত্ব। কেউ কোনও ভুল করলে তার সেই শাস্তি হওয়া উচিত। এ জন্য গোটা সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষদের বোঝানোর জন্য নেতাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।”
এর পাশাপাশিই তিনি বলেন, “কেউ কেউ ভারতবিরোধী মনোভাব থেকে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে। তাঁরা যেন অপেক্ষা করছিলেন দেশে কখন ছড়িয়ে পড়বে এই মহামারী।”